গুমের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা নাজনীন পারভীন স্বপ্না রিট আবেদনটি করেছিলেন। নিজেকে ‘সাধারণ, আইন মান্যকারী নাগরিক ও নিয়মিত করদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কমিশনের ‘বিতর্কিত প্রতিবেদনের’ কারণে তার পরিবারের একজন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রিটকারীর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত রিটকারীর মামলা করার আইনগত অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ ধরনের জনস্বার্থ মামলা করার মতো আইনগত অধিকার রিটকারীর নেই।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, মক্কেলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তার দাবি, শুনানিতে রিটকারীর মূল যুক্তির বিপরীতে কার্যকর কোনো পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি।
রিটে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং গুম তদন্ত কমিশনের সভাপতিকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৫৬ সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট কিংবা কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিলের কোনো বিধান বা ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি। তাই কমিশনের দেওয়া দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে রিট আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে তলবের আবেদন করা হয়েছিল।
আগে রিটটির শুনানি বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের বেঞ্চে দুই দিন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটকারীর আইনজীবী আজিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বেঞ্চের সভাপতিত্বকারী বিচারপতি রুল জারির মতো অবস্থানে গেলেও অপর বিচারপতি বিব্রতবোধ করে বিষয়টি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি রিটটি বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেন।
সোমবার ওই বেঞ্চে শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ার আদেশ আসে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১০/৮/২০২৬