রায়ণগঞ্জ আদালতে দায়িত্ব পালনকারী জামায়াতপন্থি সাতজন অতিরিক্ত ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণেই তারা পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা হলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর নিজাম উদ্দিন, ইসরাফিল হোসাইন ও গোলাম সারোয়ার; সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার মাইনুদ্দিন মিয়া ও জাহাঙ্গীর দেওয়ান; এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তার হোসেন ও মাসুদুর রহমান।
তারা জামায়াত-সমর্থিত সংগঠন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তার হোসেন বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং আরও কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে আমাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণেই আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা সেগুলো গ্রহণ করেছি।”
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬