যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ নষ্ট হওয়ার পর নেওয়ার্ক (নিউ জার্সির অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন এলাকার একটি প্রধান অংশ) ও ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল এবং কয়েকশ ফ্লাইটে দেরি হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলাডেলফিয়ার ওই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বড় ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেয়। কেন্দ্রটি নিউইয়র্কের নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওই অঞ্চলের রানওয়েতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনেক উড়োজাহাজ অপেক্ষায় থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা মেরামত করা হয়। এরপর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়। তবে জমে থাকা বিলম্ব স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, মূল ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর তারা বিকল্প ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় বিকল্প ব্যবস্থার একটি যোগাযোগ তারও কেটে গেছে।
ডাফি জানান, নিউ জার্সিতে রেল নির্মাণকাজের সময় একটি দল ভুল করে ভূগর্ভস্থ যোগাযোগ তার কেটে ফেলায় এই বিপর্যয় আরো বড় আকার নেয়। তার মতে, পুরোনো অবকাঠামো আধুনিক করতে আরো অর্থ প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
এদিকে আমট্রাকের এক মুখপাত্র জানান, তাদের নিজস্ব কর্মীরা নয়, নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার একটি ঠিকাদারি নির্মাণ দল তারটি কেটেছে।
নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থা জানায়, নিউ ব্রান্সউইক ও নর্থ ব্রান্সউইকের মাঝামাঝি এলাকায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নির্মাণকাজের সময় একটি তন্তু-ভিত্তিক যোগাযোগ তার ভুল করে কেটে যায়। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন দাবি করেছে, তাদের কোনো দল এ ঘটনার জন্য দায়ী নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া তাদের একটি যোগাযোগ তার নিউ জার্সির গণপরিবহন সংস্থার নির্মাণকাজের সময় কেটে যায় এবং তার কাটার আগ পর্যন্ত তাদের সব ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল।
প্রথমে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল, টেটারবোরো ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়। পরে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া ও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তখন নিউইয়র্কে আসছিলেন। ফলে ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব আরো বেড়ে যায়।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউয়ার্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে উড্ডয়নে সর্বোচ্চ ১৫০ মিনিট পর্যন্ত দেরি হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে প্রায় ৬১৯টি এবং ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর বাইরে দুই বিমানবন্দরেই আরো কয়েকশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনেও পরিস্থিতির চিত্র উঠে আসে। ফিলাডেলফিয়ায় এক পাইলট দীর্ঘ সময় উড্ডয়নের অপেক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, যন্ত্রের সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যাটি কতক্ষণ চলবে—পাইলট জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মী জানান, তিনি তা জানেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ হিসেবে পরিচিত নিউ জার্সি ও আশপাশের এলাকা। গত বছরও যন্ত্রের ত্রুটির কারণে সেখানে বিমান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সে সময় প্রায় এক ডজন উড়োজাহাজ প্রায় ৯০ সেকেন্ড যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আকাশে ছিল। তবে তখন পরিবহনমন্ত্রী ডাফি জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনায় উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
এসি/আপ্র/২২/৯/২০২৬