ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত রোববার (২১ জুন) একই আদালত জিসানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং তার ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা জিসান মিয়াকে গত রোববার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন বিকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী জানান, দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। সবকিছু স্বাভাবিক পাওয়ায় তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এদিন তদন্তকারী সংস্থা কিংবা আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আবেদন করা হয়নি। এর আগে করা জামিন আবেদনও আদালত নামঞ্জুর করেছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহ বলেন, আদালতের অনুমোদিত জিজ্ঞাসাবাদের সময় শেষ হওয়ায় জিসানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
গত ১৬ জুন একই আদালত জিসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি চার দিন পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে ১৬ জুন দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দাউদকান্দির এক বিধবা নারীর দায়ের করা মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন আসামিও গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬