বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব এক ঐতিহাসিক চুক্তি সই করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ একে একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছে। এর বদৌলতে সৌদি আরবের আনবিক শক্তি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তির বিস্তারিত খুঁটিনাটি এখনও প্রকাশ পায়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজেদের মাটিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে।
এই ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পারমাণবিক বোমা তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রথম এবং আগে থেকেই অস্থির পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এই চুক্তি।
তাই মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সই হওয়া এই চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল।
এ চুক্তির ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে ইসরায়েল শঙ্কায় আছে। বুধবার ঘোষিত চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখনও চুক্তিটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে অংশ নিতে চলা সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, “ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি হচ্ছে, তা গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতা। এটি আমাদের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে।”
“সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আঞ্চলিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে,” বলেন বেনেট।
ওদিকে, সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান বলেন, “সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নিতে পারে। এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ায় উন্মত্ত অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করবে।”
তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই এই চুক্তির বিরোধিতা করতে হবে এবং চুক্তি ঠেকাতে মার্কিন কংগ্রেসে তদবির করতে হবে।” পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র ইসরায়েলের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও কয়েক বছর ধরে কাজ চলেছে। তবে এর আগে দুই দেশের মধ্যে একযোগে এমন কোনও চুক্তি হয়নি। এ পেছনে কারণ ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সতর্কবার্তা। সংগঠনগুলো বলেছিল, এম চুক্তি হলে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে।
ইসরায়েলও আশা করেছিল, সৌদি আরবের সঙ্গে কোনও চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ হবে। বাইডেনের পরিকল্পনায় এমন উদ্যোগের কথা ছিল। ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান বেনি গ্যান্টজ বলেন, “এমন কোনও নিরাপত্তা কর্মকর্তা নেই যিনি বলবেন যে, আঞ্চলিক একটি মধ্যপন্থি জোট গঠনের অংশ না করে সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক সক্ষমতা চালু করার পদক্ষেপ ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ভালো।”
ডিসি/আপ্র/২৩/০৭/২০২৬