প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের বদলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা আরো বেড়ে গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই আলোচনায় শুরুতে কিছতা অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার দিতে তারা রাজি হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করছে। ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং পরে সরকারি উড়োজাহাজে করে দেশ ছাড়েন।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ‘অতিরিক্ত’ ও ‘অযৌক্তিক’ শর্তের কারণে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তেহরানের দাবি, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা এখনো সংলাপের সম্ভাবনাকে শেষ মনে করছে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আলোচনা গঠনমূলক ছিল এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় শুরু থেকেই সমঝোতার সম্ভাবনা দুর্বল ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মনে করছে।
এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি নতুন যুদ্ধের ঘোষণা না এলেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, ইরান চাইলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চূড়ান্ত প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রযুক্তিগত পর্যায়ে কিছু নথি ও প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই ব্যর্থ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর অগ্রগতি আনতে পারেনি। বরং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ-সবই এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সানা/আপ্র/১২/৪/২০২৬
ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধশঙ্কা আরো তীব্র
প্রত্যাশা ডেস্ক
প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে -ছবি রয়টার্স