গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর প্রেসিডেন্ট হ্লাইং

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩৯ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:১০ এএম ২০২৬
অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর প্রেসিডেন্ট হ্লাইং
ছবি

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং -ফাইল ছবি

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনাসমর্থিত পার্লামেন্টের ভোটে সহজ জয় পেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল।

২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন মিন অং হ্লাইং। সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সশস্ত্র জান্তাবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং দেশকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় তাঁর এই উত্থান ঘটে। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনীসমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে।

সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা ও ইউনিয়ন সংহতি ও উন্নয়ন পার্টির প্রাধান্য থাকা পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোট গণনা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানে মিন অং হ্লাইং অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত এই পদে আসীন হতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলও আনেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে তিনি বেসামরিক প্রেসিডেন্টের পরিচয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর প্রভাবও অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইছেন।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সেনাপ্রধানের পদ থেকে প্রেসিডেন্টে রূপান্তর তাঁর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তাঁরা কৌশলগত হিসেবেই দেখছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারের বড় অংশ এখনো অস্থিতিশীল। অং সান সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী নতুন করে একটি সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে, যার লক্ষ্য সামরিক শাসনের অবসান ঘটানো।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রশাসন গঠনের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা বাড়বে। এতে প্রতিরোধ আন্দোলনের ওপর সামরিক চাপ আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ঐক্য ও সংগঠন ধরে রাখা কঠিন করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের উত্থান মিয়ানমারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায় সূচনা করলেও দেশটির গভীর সংকটের দ্রুত সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়।
সানা/আপ্র/৩/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের গ্রীষ্মকাল ছিল গত ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা তাপপ...

যুদ্ধ নয়, শক্ত অবস্থান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ নয়, শক্ত অবস্থান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ভবিষ্যতের যেকোনো...

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলনে অন্তত ২৯...

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের চারটি বিমান ছিনতাই ছিল শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়; এটি ছিল বৈশ্বিক নিরা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে