মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর শোধনাগার এলাকা থেকে আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। একই সময়ে যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার (৯ মার্চ) প্রত্যক্ষদর্শীরা বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছেন। হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানটি দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, যা বাহরাইনের জ্বালানি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে সরকারি সূত্র থেকে বলা হয়েছিল ইরানি ড্রোন হামলায় শোধনাগারটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়।
হামলার পর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এ কারণে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন। সফরকালে তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঝাই জুন বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। তিনি সৌদি আরবকে চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। নিরীহ বেসামরিক মানুষ বা সামরিক নয়-এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নিন্দা করা প্রয়োজন। তিনি চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরই মধ্যে যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনায় উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরাকের এরবিল ও বাগদাদে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ করা হবে সে সিদ্ধান্ত তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে নেবেন।
যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬