ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনায় ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, খামেনির মৃত্যুর পর দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সাময়িক ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (আইনবিদ)। তারা সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাধিক কর্তৃপক্ষ কাজ করে থাকে। এর মধ্যে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিষদের সদস্যদের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বও পালন করে এই অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। প্রয়োজনে একক নেতার পরিবর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠনের ক্ষমতাও রয়েছে তাদের।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনির সঙ্গে তার মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
এদিকে একই দিনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আবুধাবি, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি স্থানে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের নিজ সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানে ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সানা/আপ্র/০১/০৩/২০২৬