ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় একটি মেয়েদের স্কুল ধ্বংস হয়ে অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশু ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্কুলের অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রাসাদ ধ্বংস: যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রাসাদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানা গেছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবন ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘শত্রুরা আমাদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা কাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, পাল্টা জবাব থেকে তারা অনুতপ্ত হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ছয় দেশে আঘাত। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কুয়েতের আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি আঘাত পায়। আবুধাবিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তর এবং জর্ডানেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, ‘শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে।’
ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু, সাইরেন বাজছে: ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজছে। বেসামরিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে, জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছেন, ‘ইরানের ওপর আগাম হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও হুমকি রুখতে।’
নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির মন্তব্য: ইরানের শেষ শাহের ছেলে ও নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত বিজয় নিকটে। ইরানের সাহসী মানুষকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি অবশেষে এসেছে। এই হামলার লক্ষ্য ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অত্যাচারী বাহিনীকে রুখে দেওয়া। সাধারণ মানুষকে কোনো ক্ষতি করা হয়নি।’
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের হামলার নিন্দা জানালো: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও বাহরাইন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
তেহরান ছাড়ার পরামর্শ, পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা: ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি অস্থির, সামরিক সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
সানা/আপ্র/২৮/২/২০২৬