যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন তদন্ত এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি গোপন লকার ভাড়া করেছিলেন বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ। পত্রিকাটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লকারে তাঁর বিভিন্ন আবাসন থেকে সরানো কম্পিউটার ও নথিপত্র গোপনে রাখা হতো।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফ্লোরিডার বাড়িতে সম্ভাব্য তল্লাশির আগেই এপস্টিন ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ভাড়া করে কম্পিউটার ও ছবি সরিয়ে ফেলেন। তাঁদের কাজ ছিল তদন্তকারীদের হাত থেকে প্রমাণ আড়াল করা। এ জন্য গোয়েন্দারা ১০ হাজার ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পান। নিউইয়র্কেও তাঁর নির্দেশে একটি গোপন লকার খোলা হয়।
লকারগুলোর অন্তত একটি ২০০৩ সালে ভাড়া নেওয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড রসিদ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। ওই বছর নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়; পরে তা আত্মহত্যা বলে জানানো হয়।
নথি অনুযায়ী, ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসসহ বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে লকারে রাখা হয়েছিল। টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব লকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি নাও হয়ে থাকতে পারে। ফলে সেখানে এপস্টিন ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কিত অপ্রকাশিত নথি বা আপত্তিকর উপাদান রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করলেও আরো বহু নথি অপ্রকাশিত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল, এপস্টিন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে রাখতেন। যদিও অতীতে এফবিআই জানিয়েছিল, এ ধরনের প্রমাণ তারা পায়নি।
এপস্টিন মামলায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করার অভিযোগও রয়েছে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে আসছে। নতুন এই প্রতিবেদন সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এফবিআই।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/২/২০২৬