গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কঠিন করছে যুক্তরাষ্ট্র, আসছে নতুন নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৯ এএম ২০২৬
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কঠিন করছে যুক্তরাষ্ট্র, আসছে নতুন নিয়ম
ছবি

ছবি রয়টার্স

সন্তানদের পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে মা-বাবার নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন অবস্থার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবিত এ নির্দেশনা ট্রাম্পের গত ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে তাঁর প্রশাসনের প্রথম বিস্তারিত রূপরেখা। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বন্ধ করা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোই ওই আদেশের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মর্যাদা পুরোপুরি রক্ষা করবে। নতুন নিয়মের আওতায় পাসপোর্ট দেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

বর্তমান নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় মা-বাবাকে মূলত শিশুটির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের প্রমাণ এবং সরকার স্বীকৃত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রে মা-বাবার নাগরিকত্বের তথ্য জানাতে হলেও তাঁদের অভিবাসন অবস্থার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

প্রস্তাবিত নির্দেশনায় এ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আওতায় আবেদনকারী ব্যক্তি পড়েন কি না, তা নির্ধারণের অংশ হিসেবে মা-বাবার নাগরিকত্ব ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের প্রমাণপত্র চাইবে পররাষ্ট্র দপ্তর।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে। এর মধ্যে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট, জন্মসনদ কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত নথি—যেমন আই-৯৪ ফরম বা স্থায়ী নাগরিকত্বের গ্রিন কার্ড—জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। এসব তথ্য যাচাই করেই শিশুটি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করবে সরকার।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নির্দেশনার আওতায় যেসব মা-বাবা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অথবা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে আইনি লড়াই চলার মধ্যেই পাসপোর্টসংক্রান্ত নতুন বিধির প্রস্তাব সামনে এলো। তাঁর প্রাথমিক নির্বাহী আদেশের কারণে যেসব শিশু নাগরিকত্ব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে, তাদের পক্ষে আইনজীবীরা একটি দলগত মামলা লড়ছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আদেশ বাস্তবায়ন ঠেকাতে তাঁরা দুটি পৃথক ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।

এর একটি মামলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে বিচারাধীন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে শুক্রবারের এক শুনানিতে বোর্ডম্যান ট্রাম্পের আদেশকে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আদেশটি স্থগিত করা যায় কি না, তা বিবেচনার জন্য বাদীপক্ষকে মামলায় সংশোধনী আনার অনুমতি দেন তিনি।

তবে বিচার বিভাগের আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলো এখনো কোনো নীতি প্রকাশ করেনি। তাই এ পর্যায়ে বিচারিক স্থগিতাদেশ দেওয়া অনুচিত হবে এবং মামলাটি তড়িঘড়ি করে দায়ের করা হয়েছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব সীমিত করা অন্যতম অগ্রাধিকার। এর আগে এ বিষয়ে তাঁর একটি প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

ট্রাম্পের প্রাথমিক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কেবল সেসব শিশু জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে, যাদের মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক অথবা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি অনুমতিপ্রাপ্ত।

তবে ৬-৩ ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা ট্রাম্পের ওই আদেশকে বেআইনি বলে মত দেন। বিচারকদের বড় একটি অংশের মতে, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিধানের পরিপন্থী।
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

৭১ বার আছাড় খেয়েও থামেননি, ৯১-এ পাহাড় জয়
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭১ বার আছাড় খেয়েও থামেননি, ৯১-এ পাহাড় জয়

৯১ বছর বয়সে অ্যাপলাচিয়ান ট্রেইল পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সী পর্বতারোহীর রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেছেন যুক্...

নেপালের বন্যায় ধ্বংসস্তূপে মালিকের অপেক্ষায় কুকুর
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের বন্যায় ধ্বংসস্তূপে মালিকের অপেক্ষায় কুকুর

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী বাজারে ভয়াবহ বন্যার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজের পুরোনো ঠিকানায় বসে রয়...

আনন্দবাজার কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভ
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনন্দবাজার কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভ

ভারতের কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের...

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, শিশুসহ নিহত ৫
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবারো শুরু হয়েছে হামলা-পাল্টা হামলা। মঙ্গলবার (১...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ হলো মেসির মহাকাব্য

লিওনেল মেসি ঘোষণা দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন না। ৩৯ বছরের এই কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য হয়ে রইল গত জুলাইয়ের বিশ্বকাপ ফাইনাল। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেদিন আর্জেন্টিনার হাতে ওঠেনি বিশ্বকাপ। কিন্তু মেসির জন্য সেই হারই যেন তাঁর দুই দশকের আন্তর্জাতিক মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা হয়ে থাকল। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মেসি সঠিক সময়ে অবসর নিয়েছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে