৯১ বছর বয়সে অ্যাপলাচিয়ান ট্রেইল পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সী পর্বতারোহীর রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেল স্যান্ডারস। ৩ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে নিজের হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৭১ বার আছাড় খেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ছয়টি ছিল গুরুতর। একবার হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। শেষবারও পড়ে গিয়েছিলেন সমাপ্তিরেখা থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে। তবু কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারেনি।
জর্জিয়ার স্প্রিঙ্গার মাউন্টেন থেকে মেইনের মাউন্ট কাটাহডিন পর্যন্ত বিস্তৃত অ্যাপলাচিয়ান ট্রেইল শেষ করে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মেইনের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছান স্যান্ডারস। ট্রেইলের ভাষায় তাঁকে ‘গ্রে বিয়ার্ড’ নামে ডাকা হয়। চূড়ায় পৌঁছে সাইনবোর্ডের সামনে প্রার্থনায় বসেন তিনি।
স্যান্ডারস বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেই হতো তাঁকে। একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে হয়েছে তাঁর সহায়তাকারী দল এবং তাঁদের সবাইকে, যারা তাঁকে এতদূর পৌঁছে দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৭ সালে ৮২ বছর বয়সে অ্যাপলাচিয়ান ট্রেইল পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সী হাইকারের রেকর্ড গড়েছিলেন স্যান্ডারস। চার বছর পর তাঁর ৮৩ বছর বয়সী বন্ধু এম জে এবারহার্ট সেই রেকর্ড ভেঙে দিলে তা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করেন তিনি।
প্রথমবারের যাত্রা তুলনামূলক সহজ হলেও এবার পথ ছিল অনেক কঠিন। জুনে ভারমন্টের কিলিংটন পর্বত থেকে নামার সময় পাথরের ওপর আছাড় খেয়ে হাত-পা কেটে যায় তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে স্যান্ডারস বলেন, ‘ভাগ্যিস কিছু ভাঙেনি, কিন্তু বেশ আঘাত পেয়েছিলাম। আমি রক্তও মুছিনি, শুধু হেঁটে গেছি।’
কয়েক সপ্তাহ পর বাঁ হাত অবশ হয়ে গেলে তাঁকে মেইনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ট্রোকের আশঙ্কা করা হলেও পরে জানা যায়, স্নায়ুতে চাপ পড়ার কারণে এমনটি হয়েছিল। বাড়ি ফিরে আগস্টে স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় আবার ট্রেইলে হাঁটা শুরু করেন তিনি।
পেনসিলভেনিয়ার পথে হাইকার ও ভক্তদের ভালোবাসায় আপ্লুত স্যান্ডারস বলেন, মানুষ যখন আপনার যত্ন নেয় এবং ট্রেইলে ক্যারামেল ফ্রাপে নিয়ে আসে, তখন রাস্তার পাথর আর কোনো বিষয়ই নয়। তাঁর কাছে রেকর্ড পুনরুদ্ধার এখন দ্বিতীয় বিষয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানুষ তাঁর এই চেষ্টা থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।
জুনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে ১০ নারীর একটি দলের নেতৃত্ব দেওয়া মেরিডিথ ইউয়েনসন স্যান্ডারসের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৯১ বছর বয়সেও তাঁর ক্ষিপ্রতা ও শারীরিক সক্ষমতা দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। ট্রেইলে যাত্রা শুরুর আগে স্যান্ডারসের ‘বিজয় নৃত্য’ দেখেও তাঁরা বিস্মিত হয়েছিলেন।
১৯৩৫ সালে জন্ম নেওয়া স্যান্ডারস ছোটবেলায় শারীরিক গঠনে ছোট হওয়ায় উপহাসের শিকার হতেন। পরে অ্যাক্রোবেটিকস ও সাঁতারের মতো খেলায় মন দেন। এরপর নৌবাহিনীতে চাকরি এবং পার্ক ও বিনোদন বিভাগে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০০২ সালে অবসর নেন।
৮৭তম জন্মদিনে ৮৭ দিনে পুরো মিসিসিপি নদী পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তি হিসেবে আরেকটি রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
এবারও তাঁর অদম্য মানসিকতার নজির মিলেছে ট্রেইলে। একদিন ১৯ কিলোমিটার পথ হাঁটার পর কিছুটা কাহিল হয়ে ট্রেইলের ওপর শুয়ে পড়েছিলেন স্যান্ডারস। বলেছিলেন, একটু ঘুম দরকার। মাত্র দুই মিনিট পর ঘুম ভেঙে উঠে আবার হাঁটা শুরু করেন ৯১ বছরের এই অভিযাত্রী। সূত্র: এপি
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬