ইঁদুরের ওপর টানা দুই দশকের দীর্ঘ গবেষণায় ক্লোনিং প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার ক্লোনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজন্ম তৈরি করতে থাকলে দেহে ধীরে ধীরে মারাত্মক জিনগত পরিবর্তন জমা হতে থাকে, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় একটি মাত্র দাতা ইঁদুর থেকে মোট ১ হাজার ২০৬টি ক্লোন ইঁদুর তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রথম ২৫ প্রজন্ম পর্যন্ত কোনো বাহ্যিক সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে পরবর্তী সময়ে জিনগত ত্রুটি ক্রমাগত জমতে থাকে।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫৮তম প্রজন্মের ক্লোন ইঁদুরগুলো জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যায়, যদিও বাহ্যিকভাবে তাদের শরীরে তেমন কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না।
গবেষকরা জানান, ক্লোন করা প্রাণী কখনোই মূল দাতা প্রাণীর হুবহু অনুলিপি নয়। স্বাভাবিক প্রজননের তুলনায় ক্লোন প্রাণীতে জিনগত ত্রুটির হার প্রায় তিন গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ত্রুটি জমা হতে থাকায় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ক্লোনিং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জাপানের ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী তেরুহিকো ওয়াকায়ামা গবেষণার প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের পরিবর্তন আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ক্লোনিংয়েরও একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, স্বাভাবিক প্রজননের তুলনায় ক্লোন ইঁদুরের দেহে জিনগত ত্রুটি তিন গুণ বেশি পাওয়া যায় এবং সময়ের সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ২৫ প্রজন্ম পর্যন্ত ক্লোনগুলো সুস্থ থাকলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধীরে ধীরে তাদের প্রজনন সক্ষমতাও কমে আসে।
গবেষকরা জানান, ক্লোন তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ কোষ প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস অপসারণ করে দাতা কোষের নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
গবেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ক্লোনিং করলে এক প্রজন্মের ত্রুটি পরবর্তী প্রজন্মে আরো বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত জৈবিক ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
এ গবেষণা প্রাণীদের জিনগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্বাভাবিক প্রজননের গুরুত্ব আরো স্পষ্ট করেছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
সানা/আপ্র/৮/৪/২০২৬