গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মদ-মাদকের নেশা

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২২ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৭ এএম ২০২৬
ওজন কমানোর ওষুধে কমতে পারে মদ-মাদকের নেশা
ছবি

প্রতীকী ছবি

ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ মানুষের মদ, তামাক ও বিভিন্ন মাদকের প্রতি আসক্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে-সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

একটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব ওষুধ মানুষের অ্যালকোহল, তামাক, গাঁজা ও কোকেনের মতো মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইতিমধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত, তাদের ক্ষেত্রেও এসব ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মাউঞ্জারো ও ওজেম্পিক ধরনের ওষুধ মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এসব ওষুধ মস্তিষ্কের সেই অংশকে প্রভাবিত করে, যা মানুষের আনন্দ বা পুরস্কারের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নেশার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমে যেতে পারে। খাওয়ার পর শরীরে যে প্রাকৃতিক হরমোন তৈরি হয়, এই ওষুধগুলো প্রায় একইভাবে কাজ করে এবং মানুষকে পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছয় লাখের বেশি সাবেক সেনাসদস্যকে তিন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই বিশেষ ধরনের ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে গাঁজা ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় ১৪ শতাংশ, কোকেন ২০ শতাংশ, নিকোটিন ২০ শতাংশ এবং ওপিওয়েডজাত ব্যথানাশক মাদকের নেশা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।

যারা আগে থেকেই মাদকাসক্ত, তাদের ক্ষেত্রেও এসব ওষুধ ইতিবাচক প্রভাব দেখিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণের ঝুঁকি প্রায় ৩৯ শতাংশ, জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন প্রায় ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

এক আন্তর্জাতিক ওষুধবিজ্ঞান সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ক্লেয়ার অ্যান্ডারসন বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ধরনের ওষুধ মস্তিষ্কের আনন্দ ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে এসব ওষুধ সরাসরি নেশা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরো নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা গবেষণা প্রয়োজন।

আরেক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংগঠনের কর্মকর্তা গ্যারেথ জোনস বলেন, এই গবেষণা দেখাচ্ছে যে ওজন কমানোর চিকিৎসা ভবিষ্যতে আরো বড় স্বাস্থ্যগত সুফল এনে দিতে পারে। তবে এই ওষুধগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরো তথ্য জানা প্রয়োজন।

অন্য এক গবেষণায় আবার দেখা গেছে, যারা এই ধরনের ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করে দেন, তাদের মধ্যে এক বছরের মধ্যে হারানো ওজনের প্রায় ৬০ শতাংশ ফিরে আসে। দীর্ঘমেয়াদে এই হার প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে যতটা ওজন কমে, দীর্ঘ সময়ে তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে ওজন কমানোর ওষুধ ভবিষ্যতে আসক্তি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে এ বিষয়ে আরো বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
২৫ জুলাই ২০২৬

বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটা। ‘ফে...

আগস্টে চাঁদে আছড়ে পড়বে স্পেসএক্স রকেটের অংশ
২৪ জুলাই ২০২৬

আগস্টে চাঁদে আছড়ে পড়বে স্পেসএক্স রকেটের অংশ

মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি রকেটের অংশ আগামী আগস্টে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যা...

এআই বিপ্লবের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ, মানুষ কি  কর্মক্ষেত্র হারাবে?
২৪ জুলাই ২০২৬

এআই বিপ্লবের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ, মানুষ কি কর্মক্ষেত্র হারাবে?

একসময় কারখানায় যন্ত্রের আগমন নিয়ে ভয় ছিল—যন্ত্র মানুষের কাজ কেড়ে নেবে। পরে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও স্...

ফিরে এলো ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন
১৯ জুলাই ২০২৬

ফিরে এলো ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন

প্রায় দুই ঘণ্টার বিভ্রাট শেষে আবারো স্বাভাবিক হয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ডেস্কটপ ভ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে