রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানোর মসলা নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরেই ভেষজ গুণের জন্য পরিচিত। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রসুন রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এর সম্ভাব্য উপকারিতার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শুধু রসুন খেলেই হবে না, সর্বোচ্চ উপকার পেতে জানতে হবে খাওয়ার সঠিক পদ্ধতিও।
যেভাবে রসুন উপকার করে: রসুনে রয়েছে সালফারজাতীয় সক্রিয় যৌগ অ্যালিসিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে, রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে প্রদাহ কম থাকলে ইনসুলিন আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে রসুন কখনোই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়; এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ।
অ্যালিসিন কীভাবে তৈরি হয়: রসুনের ভেতরে থাকা অ্যালিন ও অ্যালিনেজ নামের দুটি উপাদান একত্রিত হয়ে অ্যালিসিন তৈরি করে। কিন্তু এটি ঘটে তখনই, যখন রসুন কুচি করা, থেঁতো করা বা কেটে দেওয়া হয়।
তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, রসুন থেঁতো বা কুচি করার পর অন্তত ১০ মিনিট খোলা বাতাসে রেখে তারপর খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার করা উচিত। এতে অ্যালিসিন তৈরির সুযোগ বাড়ে এবং রসুনের উপকারিতাও বেশি পাওয়া যায়।
ডায়াবেটিসে যেভাবে খাবেন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকার পেতে রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কুচি বা থেঁতো করে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর চাইলে কাঁচা খেতে পারেন অথবা রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।
যারা কাঁচা রসুনের ঝাঁজ সহ্য করতে পারেন না, তারা রান্না করে খেতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে অ্যালিসিনের কিছু অংশ নষ্ট হতে পারে। যদিও রসুনের অন্যান্য উপকারী উপাদান তখনও বজায় থাকে।
নিয়মিত পরিমিত রসুন খেলে সম্ভাব্য উপকার
* শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
* রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
* হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
* কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন: সবার জন্য কাঁচা রসুন সমান উপযোগী নয়। যাদের গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, অতিরিক্ত অম্লতা বা পাকস্থলীর আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের কাঁচা রসুনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে রান্না করা রসুন তুলনামূলক নিরাপদ।
এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন অথবা শিগগির অস্ত্রোপচার করাবেন, তারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। কারণ অতিরিক্ত রসুন রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রসুন একটি পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য উপাদান। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে রসুন থেঁতো বা কুচি করে অন্তত ১০ মিনিট রেখে খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি, হেলথলাইন
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬