অনেকেরই অল্প বয়সের চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা দূর করতে তারা চুলে রঙ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। এতে চুল সাময়িক কালো হলেও নষ্ট হয়ে যায় চুলের স্বাস্থ্য। তাই বারবার হেয়ার কালার বা ডাই না করে চুলের যত্ন নিতে হবে ঘরোয়া উপায়ে। এটি সহজ প্রাকৃতিক উপায়- যা চুলকে করে কালো ও মজবুত। তা হলো-
অকালে চুল পাকে কেন: চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট কোষগুলো মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে যা চুলের রং কালো করে। তবে কোনো কারণে শরীরে মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হলে চুল ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে। তবে কম বয়সে চুলে পাক ধরার সমস্যাটা মূলত জিনগত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে প্রিম্যাচিয়োর ক্যান্যাইটিস বলা হয়। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, খাদ্যাভাস আর বাইরের দূষণও চুল পাকার কারণ হতে পারে। শরীরে ভিটামিন বি-১২, কপার বা তামা, আয়রন ও জিংক, ভিটামিন ডি ও ই-এর মতো বিশেষ কিছু পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলেও অকালে চুল পেকে যায় অনেকের।
চুল পাকা রোধে ঘরোয়া উপায়-
নারিকেল তেল ও কারিপাতা: গরম নারিকেল তেলে কিছু কারি পাতা দিয়ে সেদ্ধ করুন। এর পর তেলটি ঠাণ্ডা করে ছেকে নিন। এই তেল রাতে চুলের গোড়ায় মাসাজ করে সকালে শ্যাম্পু করে নিন। কারিপাতায় বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে-যা চুল পাকতে দেয় না এবং চুলকে করে আরও কালো।
আমলকী: আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে- যা চুল পাকা রোধ করে। তাই নিয়মিত আমলকি খান। চুলে নারিকেল ও আমলকীর তেল ব্যবহার করুন। নারিকেল তেলে আমলকী সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা করে ছেকে নিন। এরপর সেটি চুলে মাসাজ করুন। এ ছাড়া আমলকী গুঁড়া বা পাউডার দিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
পেঁয়াজের রস: চুলের যত্নে পেঁয়াজের রসের ব্যবহার খুবই পুরনো। চুলের গোড়ায় তাজা পেঁয়াজের রস লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। পেঁয়াজের রসে সালফার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে- যা চুলের গোড়াকে মজবুত করে এবং চুল পাকা কমায়।
নিয়মিত তেল ব্যবহার: নিয়মিত তেল ব্যবহারে চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায়। এতে অকালে চুল পাকার ঝুঁকি কমে। সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে নারিকেল, বাদাম বা ক্যাস্টর অয়েল হালকা গরম করে মাসাজ করুন।
চুলের যত্নে করণীয়: নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে; ঠিকমতো ও সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে; সুতি কভার ছেড়ে বালিশে সিল্কের কভার ব্যবহার করুন; চিরুনি নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন; আঁটসাঁট করে চুল বাঁধবেন না।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/৩১.০৮.২০২৬