একসময় সুঁই দেখলেই ভয় পেতেন তিনি। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করেই মানুষের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড্যান রায়ান। কয়েক দশক ধরে নিয়মিত রক্তদান করে তিনি গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড, স্থান পেয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া ড্যান রায়ান এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রেড ক্রসে ৩০ গ্যালনের বেশি অর্থাৎ প্রায় ১১৩ দশমিক ৫৬২ লিটার রক্ত দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া রক্তের পরিমাণ প্রায় ৩৪৪টি কোকাকোলার ক্যানের সমান। অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত থাকে মাত্র ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৫ গ্যালন রক্ত।
২০২৫ সালের ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাল্টায় পুরুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ‘পূর্ণ রক্ত’ দেওয়ার রেকর্ড হিসেবে ড্যানের এই অবদান আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় শুরু হয়েছিল যাত্রা: অথচ ড্যানের রক্তদানের গল্প শুরু হয়েছিল ভয় দিয়েই। ১৯৮০ সালে প্রয়াত ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় প্রথমবার রক্ত দিতে যান তিনি।
ড্যান জানান, তাঁর ভাই নিয়মিত রক্ত দিতেন এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব তাঁকে বোঝাতেন। শুরুতে ড্যান রাজি না হওয়ায় ভাই মজা করে তাঁকে ‘ভীতু’ বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
প্রথমবার রক্ত দেওয়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড্যান বলেন, সুঁই ফোটানোর সময় তাঁর হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, অজানা ভয়ই আসলে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল। রেড ক্রসের কর্মীদের আন্তরিক আচরণে তাঁর ভয় ধীরে ধীরে কেটে যায়।
এরপর থেকে গত ৪৬ বছর ধরে নিয়মিত রক্ত দিয়ে আসছেন ড্যান। তবে ম্যালেরিয়ার ওষুধ গ্রহণের কারণে তিন বছর তাঁকে রক্তদান থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল।
জমেছে ৩২টি স্বীকৃতির স্মারক: দীর্ঘদিনের এই মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আমেরিকান রেড ক্রস নিয়মিত রক্তদাতাদের বিশেষ ‘মাইলস্টোন পিন’ দিয়ে সম্মানিত করে। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ড্যান এমন ৩২টি পিন সংগ্রহ করেছেন।
শুরুর দিকে এসব পিন ড্রয়ারেই পড়ে ছিল। পরে ১৫ বছর আগে কাঠের কাজের শখ থেকে তিনি একটি বিশেষ ফ্রেম তৈরি করেন এবং সেখানে পিনগুলো সাজিয়ে রাখেন। ওই ফ্রেমে ৪০টি পিন রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
ড্যান এভাবে রক্তদান চালিয়ে গেলে তাঁর ৮০তম জন্মদিনের আগেই ৪০ গ্যালন রক্তদানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজের দীর্ঘ এই যাত্রা নিয়ে ড্যান বলেন, এই কাজ তাঁকে অসাধারণ অনুভূতি দেয়। তিনি আশা করেন, তাঁর দেওয়া রক্ত মানুষের উপকারে আসছে।
ড্যানের নিজের বাবারও একবার হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তাঁর এই অর্জনের পেছনে ভাইয়ের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভাইয়ের অনুপ্রেরণা না থাকলে এই পথচলা শুরুই হতো না।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়াকে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হয় ড্যানের কাছে। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো-নিজের রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারা। সূত্র: এনডিটিভি
সানা/আপ্র/৭/৭/২০২৬