কালো ডার্বি হ্যাট, টুথব্রাশ আকৃতির গোঁফ আর হাতে পরিচিত লম্বা ছড়ি-এমন সাজে রোববার সুইজারল্যান্ডে এক জায়গায় জড়ো হন ৪২৯ জন মানুষ। তাঁদের সবার লক্ষ্য ছিল কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চার্লি চ্যাপলিনকে স্মরণ করা এবং একই সঙ্গে একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়া।
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের কর্সিয়ে-সুর-ভেভেতে চার্লি চ্যাপলিনের ঐতিহাসিক বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী সমাবেশ। জীবনের শেষ ২৫ বছর তিনি এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন। বর্তমানে বাসভবনটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে।
জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব বয়সী চ্যাপলিন অনুরাগীরা অংশ নেন। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল চার্লি চ্যাপলিনের সাজে এক স্থানে সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে নতুন রেকর্ড গড়া। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
এর আগে ২০১৭ সালে একই স্থানে ৬৬২ জন চ্যাপলিন সেজে জড়ো হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। এবারের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৪২৯ জন, ফলে আগের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকে।
রেকর্ড ভাঙা সম্ভব না হলেও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৩৬ বছর বয়সী অভিনেতা অঁতোনি শঁপেইয়কে দেখতে প্রায় অবিকল চার্লি চ্যাপলিনের মতো লাগছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’
শঁপেইয় জানান, তিনি একজন অভিনেতা এবং নিয়মিত মঞ্চে চার্লি চ্যাপলিনের চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চ্যাপলিনের বাড়িতে এমন মানুষদের সঙ্গে একত্র হয়েছি, যাঁরা তাঁকে ভীষণ ভালোবাসেন এবং তাঁর প্রতি গভীর অনুরাগ পোষণ করেন।’
সুইজারল্যান্ডের ফরাসিভাষী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর লোজান থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশাল ম্যানোয়ার দ্য বান এস্টেটে গড়ে তোলা হয়েছে এই জাদুঘর। চার্লি চ্যাপলিন তাঁর স্ত্রী উনা ও তাঁদের আট সন্তানকে নিয়ে ১৯৭৭ সালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেছেন।
শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত অনুপ্রবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে কমিউনিস্ট-সমর্থক সন্দেহে ১৯৫০-এর দশকে চ্যাপলিনের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সূত্র: এএফপি
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬