মাত্র দুই সপ্তাহে শুধু পোষা বিড়ালকে খাবার খাইয়ে চীনের এক তরুণ আয় করেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকারও বেশি। তাঁর এই অভিনব উপার্জনের কৌশল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই তরুণের নাম হুয়ান কং। ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া তিনি সাংহাই শহরের বাসিন্দা। চলতি বছরে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির সময় তিনি এই অর্থ আয় করেন। এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চীনা নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়।
চীনা নববর্ষ দেশটির সবচেয়ে বড় উৎসব। এ সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ভ্রমণে বের হন। কেউ শহর থেকে গ্রামে পরিবারের কাছে যান, আবার কেউ দূরে কোথাও বেড়াতে যান। বলা হয়ে থাকে, এই উৎসবের সময়ই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভ্রমণ ঘটে।
তবে ভ্রমণে বের হওয়ার সময় অনেকের পক্ষেই পোষা প্রাণী সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে এই সময়ে পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার পেশাদার সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। হুয়ান কং প্রায় নয় বছর ধরে এই পেশায় কাজ করছেন এবং এ জন্য তিনি নিজের একটি দলও গড়ে তুলেছেন।
হুয়ান ও তাঁর দল মূলত গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে পোষা বিড়ালের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা করা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
চীনা নববর্ষের সময় হুয়ান ও তাঁর চার সদস্যের দল সাংহাই শহরজুড়ে এমন সব মানুষের বাড়িতে সেবা দেন, যারা ছুটিতে ভ্রমণে গেছেন বা নিজ নিজ শহরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন।
উৎসবের আগে ও পরে মিলিয়ে প্রায় ২০ দিনের বেশি সময়ে হুয়ানের দল প্রায় দুই হাজার বাড়িতে গিয়ে বিড়ালকে খাবার দিয়েছেন। এর মধ্যে হুয়ান নিজেই প্রায় এক হাজার বাড়িতে গিয়ে কাজ করেছেন।
উৎসবের সময় হুয়ানের কর্মব্যস্ততা ছিল চরম পর্যায়ে। প্রতিদিন ভোর তিনটায় তিনি কাজ শুরু করতেন এবং রাত দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতেন। সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে তিনি প্রায় ৫৫টি বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়েছেন।
প্রতিটি বাড়িতে তাঁর প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিড়ালের মলমূত্র পরিষ্কার করেন, খাবার ও পানি পরিবর্তন করেন, প্রাণীটির স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সব আবর্জনা সংগ্রহ করে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন।
এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে তিনি অতিরিক্ত সেবাও দিয়ে থাকেন, যেমন-বিড়ালকে ওষুধ খাওয়ানো বা নখ কেটে দেওয়া।
হুয়ানের এই আয় দেখাচ্ছে, বড় উৎসবের সময় যখন পোষা প্রাণীর মালিকেরা বাড়ির বাইরে থাকেন, তখন বিশ্বস্ত পোষা প্রাণী পরিচর্যা সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬