গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

দাদাগিরিতে নতুন অধ্যায় দেব, সৌরভ ‘দাদা’র ছায়া পেরোবে?

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৪ পিএম, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৯ এএম ২০২৬
দাদাগিরিতে নতুন অধ্যায় দেব, সৌরভ ‘দাদা’র ছায়া পেরোবে?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলার টেলিভিশন জগতে কিছু অনুষ্ঠান থাকে, যেগুলো কেবল বিনোদন নয়—একটি আবেগ, একটি ঘরের গল্প, একটি পরিচিত মুখের প্রতিদিনের উপস্থিতি। ‘দাদাগিরি’ ঠিক তেমনই এক নাম। আর সেই নামের সঙ্গে এত বছর ধরে যে মানুষটি মিশে গেছেন, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ক্রিকেট মাঠে যিনি ছিলেন নেতৃত্বের প্রতীক, টেলিভিশনের মঞ্চে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার ঘরের ‘দাদা’—একজন এমন সঞ্চালক, যাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল উষ্ণতা, হাসি আর আত্মিক সংযোগ।

কিন্তু সময়ের নিয়মে পর্দা বদলায়। বদলায় মুখ, বদলায় কণ্ঠ। আর সেই বদলের ধারাতেই এবার ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে আসছেন নতুন দাদা—অভিনেতা ও জনপ্রিয় তারকা দেব। খবরটি এখন আর জল্পনা নয়, বাস্তব। নিজেই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি, এই নতুন যাত্রা শুরু করতে গিয়ে মনের ভেতর যেমন আছে উচ্ছ্বাস, তেমনই আছে অজানা নার্ভাসনেস। তাঁর ভাষায়, “একটু নার্ভাস, একটু খুশি, তবে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত।”

এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে যায় নতুন দায়িত্বের ভার। কারণ দেব জানেন, তিনি কেবল একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে যাচ্ছেন না—তিনি পা রাখতে যাচ্ছেন এমন এক মঞ্চে, যেখানে দর্শকের ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে।

দাদাগিরি শুধু একটি টেলিভিশন শো নয়। এটি বাংলার সাধারণ মানুষের গল্প বলার জায়গা। জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি—সব জায়গা থেকে আসা মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম, হাসি-কান্না এই মঞ্চেই হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়। আর সেই সব গল্পকে যিনি নিজের মতো করে ছুঁয়ে গেছেন, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সহজ, সাবলীল ভঙ্গি, রসবোধ আর মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ক্ষমতা দাদাগিরিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

এখন প্রশ্ন একটাই—সেই জায়গা কি পূরণ করতে পারবেন দেব?

উত্তরটা হয়তো সরল নয়। কারণ সৌরভকে অনুকরণ করে নয়, দেবকে এখানে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বড় পর্দার নায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি যতটা দৃঢ়, টেলিভিশনের লাইভ সংযোগে সেই একই স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখা হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

তবে দেবের শক্তি আলাদা। তিনি সমকালীন, প্রাণবন্ত এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষা বোঝেন। মানুষের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতা তাঁর আছে। ফলে ‘দাদাগিরি’ যদি নতুন রূপে ফিরে আসে, তবে সেটি একেবারে অন্য এক আবহও তৈরি করতে পারে—যেখানে স্মৃতি আর পরিবর্তন পাশাপাশি হাঁটে।

দর্শকের মধ্যেও কৌতূহল প্রবল। কেউ অপেক্ষায় দেবের উপস্থাপনার ধরন দেখার জন্য, কেউ আবার খুঁজছেন সৌরভের অভাব। এই দ্বন্দ্বই হয়তো আগামী দিনগুলোতে দাদাগিরিকে আরও আলোচনায় রাখবে।

তবে একটি সত্য বদলায় না—জনপ্রিয়তার মঞ্চ কখনোই স্থির থাকে না। সময়ের সঙ্গে মুখ বদলায়, ভাষা বদলায়, কিন্তু মানুষের গল্প বলার আকাঙ্ক্ষা থেকে যায় একই।

সৌরভ তাঁর অধ্যায় লিখে গেছেন। এবার দেবের পালা। তিনি কি পারবেন সেই অধ্যায়কে সম্মান জানিয়ে নিজের নামে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে? নাকি সৌরভের ছায়াই থেকে যাবে দর্শকের মনে সবচেয়ে উজ্জ্বল?

উত্তর দেবে সময়। আর সেই সময়ই আবার নতুন করে লিখবে বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন মঞ্চের ইতিহাস।
সানা/আপ্র/২৭/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আবারও একসঙ্গে সঞ্জয়-নোরা ফাতেহি, আসছে ‘চ্যাম্পিয়ন’
২৭ জুন ২০২৬

আবারও একসঙ্গে সঞ্জয়-নোরা ফাতেহি, আসছে ‘চ্যাম্পিয়ন’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সির সির’ গান দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাংলাদেশি-আম...

ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি ঘৃণা নেই: তটিনী
২৭ জুন ২০২৬

ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি ঘৃণা নেই: তটিনী

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক, তখন ভিন্ন বার্ত...

ওমরাহ পালন করলেন অভিনেত্রী ভাবনা
২৭ জুন ২০২৬

ওমরাহ পালন করলেন অভিনেত্রী ভাবনা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা পরিবারসহ পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন। সম্প্রতি বাবা, মা ও ছোট বোনকে...

আমি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছি: সামান্থা
২৫ জুন ২০২৬

আমি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছি: সামান্থা

গত বছরের ডিসেম্বরে পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে