গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

মব সংস্কৃতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:৩১ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০৬ এএম ২০২৬
মব সংস্কৃতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি
ছবি

প্রতিনিধিত্বকারী ছবি

রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন আইনের শাসন কেবল সংবিধানের পাতায় নয়, বাস্তব জীবনের প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান থাকে। কিন্তু যখন চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ ও জিম্মির মতো অপরাধগুলো সামাজিক বাস্তবতায় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং নাগরিকের নিরাপত্তা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজির চেষ্টা ও মব সৃষ্টির ঘটনা সেই গভীর সংকটেরই আরেকটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

একজন চিকিৎসকের প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে পণ্য সরবরাহে বাধ্য করার চেষ্টা, অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ, এবং প্রতিরোধের মুখে সংগঠিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি-এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি সেই পুরনো দুষ্টচক্রের নতুন রূপ, যেখানে অপরাধীরা দলীয় ছায়া ব্যবহার করে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য মনে করে। আরো উদ্বেগজনক হলো, এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদি রাষ্ট্রের বাহিনীই দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের আশ্রয় কোথায়?

এ বাস্তবতায় চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সূচনা। কিন্তু তালিকা তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হয় তার পরেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তালিকা বহুবার হয়েছে, অভিযানও হয়েছে-কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব, আপস এবং নির্বাচনী সমীকরণের কাছে অনেক সময় সেই উদ্যোগ থমকে গেছে। এবার সেই পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

এখানেই বর্তমান সরকারের প্রতি, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। কারণ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিপক্ষকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আক্রমণ করে জনমত গঠনের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা এখন একটি নৈতিক দায়ে পরিণত হয়েছে। জনগণ জানতে চায়-যে ভাষণে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এত দৃঢ় অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?

রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়; এটি সাহসিকতার পরীক্ষা। এই সাহস দেখাতে হবে নিজেদের ভেতর থেকেও। যদি দলীয় পরিচয়ের আড়ালে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করা হয়, তবে সেই ব্যর্থতা কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতারও অবক্ষয় ডেকে আনবে। আইন যদি সবার জন্য সমান না হয়, তবে সেটি আইন নয়-ক্ষমতার হাতিয়ার মাত্র।

মব সংস্কৃতি এই সংকটকে আরো ভয়াবহ করে তোলে। এটি আইনের শাসনের সরাসরি অস্বীকৃতি। যখন কিছু মানুষ দলবদ্ধ হয়ে বিচারক, শাস্তিদাতা ও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই সংস্কৃতিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া মানে ভবিষ্যতের জন্য আরো বড় অরাজকতার দরজা খুলে দেওয়া।

অতএব, এখন প্রয়োজন আপসহীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচার্য-এই নীতিকে কার্যকর করতে হবে দৃশ্যমানভাবে। দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সম্পূর্ণ অবসান-এই তিনটিই হতে পারে কার্যকর সমাধানের ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই মুহূর্তে দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই-তিনি যেন প্রমাণ করেন, রাষ্ট্র তার নিজস্ব শক্তিতে পরিচালিত হয়, কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ইচ্ছায় নয়। চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কেবল ঘোষণা নয়, বাস্তবতায় রূপ নিক-এই প্রত্যাশাই আজ সবচেয়ে বড়।
কারণ, দুষ্টচক্র ভাঙতে দেরি হলে, সেই দুষ্টচক্রই একসময় রাষ্ট্রকে গ্রাস করে। 
সানা/আপ্র/১৩/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি
১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি

ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস থাকা সত্ত্বেও সামান্য শারীরিক পরিশ্রম বা অলসতার অজুহাতে চলন্ত গাড়ির সামনে...

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ
১৫ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ

ক্ষুদ্রঋণের মূল দর্শন ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে পুঁজি তুলে দিয়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ম...

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা
১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ সেই উপার্জ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে