অনাদি কুমার মণ্ডল, মাদারীপুর: মাদারীপুরের জাহাঙ্গীর খান হত্যা মামলার আসামি ওসমান আকন (৩০)-এর মরদেহ ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মামলার বাদীপক্ষ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি রাতে মাদারীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যখাগদী এলাকায় জাহাঙ্গীর খানের সঙ্গে একই এলাকার ইউসুফ আকনসহ কয়েকজনের জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এর জেরে মাথায় আঘাত পেয়ে জাহাঙ্গীর খানের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর খানের বড় মেয়ের জামাতা মো. সাজ্জাদ শেখ বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউসুফ আকন, ওসমান আকন, রুহুল আকন, রবিউল আকনসহ চার ভাই, তাদের চাচা সাহেব আলী আকন এবং আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর রবিউল আকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও অন্য আসামিরা পলাতক ছিলেন। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকা মহানগরের শাহবাগ থানা এলাকা থেকে ওসমান আকনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে মাদারীপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের মা রাহেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর তার প্রতিবন্ধী ছেলে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। পুলিশ খবর দেওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ওসমানকে হত্যা করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীর খান হত্যা মামলার বাদী সাজ্জাদ শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওসমান আকনের বিরুদ্ধে চুরির প্রবণতার অভিযোগ ছিল। কোথাও চুরি করতে গিয়ে তিনি কোনো ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শাহবাগ থানা এলাকা থেকে ওসমান আকনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তারা জেনেছেন। নিহত ওসমান জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি ছিলেন। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
সানা/আপ্র/৩০/৫/২০২৬