গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

জ্বালানি থেকে ভোজ্য

রুখতে হবে তেলের বাজারের নৈরাজ্য

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:৪৭ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৩:২১ এএম ২০২৬
রুখতে হবে তেলের বাজারের নৈরাজ্য
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে- এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তার বড় অংশই বাস্তব সংকটের চেয়ে সংশয়, আতঙ্ক, গুজব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগসন্ধানী আচরণের ফল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকারি তথ্য অনুযায়ী জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন মানুষের উদ্বেগেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পরিস্থিতি সামাল দিতে যানবাহনভেদে জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করেছে। মোটরসাইকেলে দিনে দুই লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং বিভিন্ন বড় যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো-সরকার আশ্বস্ত করলেও বাজারে আতঙ্ক কমেনি। একই সঙ্গে বাজারে ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক সংকটের কথাও জানা যাচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল অনেক দোকানে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা মানুষের সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো-মজুদ থাকা সত্ত্বেও পণ্য হঠাৎ করে বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাজার সিন্ডিকেটের পুরোনো সমস্যাটিই সামনে আসে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাজার সিন্ডিকেট নতুন কোনো সমস্যা নয়। অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলেই অভিযোগ উঠেছে-কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুযোগ পেলেই পণ্য মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য অস্থিরতা-সবকিছুকেই তারা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। ফলাফল হয় একটাই-ভোক্তা জিম্মি, আর অসাধু বণিকদের অস্বাভাবিক মুনাফা। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আশ্বাস দেওয়া নয়; কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অকারণে পণ্য মজুদ, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম আদায় কিংবা ‘পণ্য নেই’ বলে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি-এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিপণন আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না। সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত সরকারি বুলেটিন প্রকাশ করা হলে গুজব কমবে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো অসাধু গোষ্ঠী অন্ধকারে থেকে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে।

পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানার সাময়িক উৎপাদন বন্ধের খবর। যদিও এটি সরাসরি ভোক্তা বাজারের সংকট নয়, তবুও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপের একটি ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই সমন্বিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে-যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় আরো চাপ তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কা সামনে রেখেই সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সংকটের সময় যেন অসাধু বণিকচক্র জনগণকে জিম্মি করে অতি মুনাফা লুফে না নিতে না পারে- এ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। বাংলাদেশ বহু সংকট মোকাবিলা করেছে। কিন্তু বাজারে কৃত্রিম নৈরাজ্য তৈরি হলে সেই সংকট অকারণে বহুগুণ বাড়ে। তাই এখনই কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি থেকে ভোজ্য তেল- সবক্ষেত্রেই বাজারের নৈরাজ্য রুখে দাঁড়ানো সময়ের দাবি।

সানা/এসি/০৮/০৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

টুথপেস্টেও বিষের ছোবল, এখনই চাই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ
২৮ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্টেও বিষের ছোবল, এখনই চাই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

মানুষ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে কাজটি সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে করে,...

উন্নয়নের নামে ঢাকার অস্তিত্ব বিপন্ন করা যাবে না
২৭ জুলাই ২০২৬

উন্নয়নের নামে ঢাকার অস্তিত্ব বিপন্ন করা যাবে না

রাজধানী ঢাকা আজ এক গভীর নগর সংকটের মুখোমুখি। জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, জল...

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব
২৬ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি একদিকে যেমন একটি ব্যক্তিগত বাস্...

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই
২৫ জুলাই ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তায় আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সেতু, সড়ক বা উঁচু ভবন নির্মাণে পরিমাপ করা যায় না; নাগরিকের ঘরে চুলা জ্বলে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 ঘন্টা আগে