খলিলুর রহমান খলিল, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ বাজারে একটি ডেকোরেটরের দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান জানান, তারাগঞ্জ হাই স্কুল মার্কেটে তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে একটি ডেকোরেটরের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ২৯ মে রাত ১০টার দিকে দোকান তালাবদ্ধ করে তিনি বাড়ি যান। পরদিন ৩০ মে ভবেশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একদল লোক দোকানের শাটার ও তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা দোকানের মূল্যবান মালামাল বের করে রাস্তা ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে এবং দোকানটি দখলে নেয়।
খবর পেয়ে খলিলুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে সরে যান। পরে বিষয়টি জানানো হলে তারাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ রায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মালামাল পুনরায় দোকানে তোলার চেষ্টা করলে ভবেশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
এ হামলায় খলিলুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরে দোকানটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোকানটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সানা/আপ্র/৩০/৬/২০২৬