সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও বাংলোর সংযোগ সড়কে টাইলস স্থাপন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই রাস্তার টাইলস উঠে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলো থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ঢালাইসহ টাইলস বসানোর কাজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি আশরাফ আলী কার্যাদেশ পেলেও বাস্তবে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বজল কুমার শীল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই টাইলস হাত দিয়েই উঠিয়ে ফেলা যাচ্ছে, যা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি মাসের ১৫ তারিখে কাজ শেষ হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বসানো টাইলস আলগা হয়ে গেছে। পরে কিছু অংশে সংস্কারের জন্য টাইলস তুলে পুনরায় বসানোর কাজও শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজের সঙ্গে যুক্ত মিস্ত্রি শাহিন গাজি জানান, ঢালাইয়ের ওপর বালুর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার না করায় টাইলস সঠিকভাবে বসেনি। ফলে তা সহজেই উঠে যাচ্ছে এবং এখন পুনরায় সংস্কারের কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, আব্দুর রহমান ও জয়দেবসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণের সময় ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি এবং টাইলস বসানোর সময়ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সামান্য চাপ দিলেই টাইলস উঠে যাচ্ছে, যা প্রকল্পের চরম অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
তবে ঠিকাদার এমডি আশরাফ আলী বলেন, কাজটি তার নামে হলেও বাস্তবায়ন করছেন জাহাঙ্গীর হোসেন। অনিয়ম হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বজল কুমার শীল অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাইলস বসানোর পর যথাযথভাবে পানি না দেওয়ায় তা শক্ত হয়নি। তবে বিষয়টি সমাধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার জানান, তিনি বর্তমানে বাইরে রয়েছেন এবং পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেয়ারা বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে অবগত নন। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নিম্নমানের কাজ ও তদারকির দুর্বলতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
সানা/আপ্র/৩১/৩/২০২৬