গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সাতক্ষীরায় জাল কোর্ট ফি চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫০ এএম ২০২৬
সাতক্ষীরায় জাল কোর্ট ফি চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার
ছবি

মো. সিরাজুল ইসলাম -ছবি আজকের প্রত্যাশা

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার জাল কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামি ও আদালতের অফিস সহায়ক মো. সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) রাতে সাতক্ষীরা জজ আদালত চত্বরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল কালীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দুই ক্রমিকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকার কোর্ট ফি জমা দেওয়া হয়। পরে ওই কোর্ট ফি জাল বলে সন্দেহ হলে আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগম জেলা ট্রেজারি অফিসে প্রতিবেদন চান।

ট্রেজারি অফিসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কোর্ট ফি তাদের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। এরপর ২০২১ সালের ১ জুলাই সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে আইনজীবী সহকারী কেরামত আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, জাল কোর্ট ফি স্ট্যাম্প বিক্রেতা রাজীবুল্লাহর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাজীবুল্লাহও গ্রেফতার হন এবং তিনি আদালতের পিয়ন সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে এসব কোর্ট ফি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফরিদ আহম্মদ ২০২৩ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিরাজুল ইসলাম, কেরামত আলী ও রাজীবুল্লাহকে আসামি করা হয়। তবে অভিযোগপত্রে সিরাজুলকে পলাতক দেখানো হয়।

পরবর্তীতে মামলার নথি দীর্ঘ সময় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৩০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনউদ্দিন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সিরাজুল ইসলাম। বর্তমানে অফিস সহায়ক হিসেবে তার মাসিক বেতন ১৯ হাজার ৩২০ টাকা। তবে এর মধ্যেই তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া মাছখোলায় জমি কেনা ও বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের তথ্যও সামনে এসেছে।

তার সম্পদের উৎস নিয়ে আদালতপাড়াসহ স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেছেন অনেকে।

এদিকে সিরাজুল ইসলামের গ্রেপ্তারের পর দুই কোটির বেশি টাকার জাল কোর্ট ফি কিনে বিপাকে পড়া শতাধিক আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে আদালতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ মানিক, সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
২৪ আগস্ট ২০২৬

ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ মানিক, সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ফরিদপুর উপজেলার রুলদহ গ্রামের আরশেদ আলী সরকারের ছেলে মো. মানিক সরক...

তালা ভেঙে কারখানা উচ্ছেদের অভিযোগ, ক্ষতি ২ কোটি টাকা
২৪ আগস্ট ২০২৬

তালা ভেঙে কারখানা উচ্ছেদের অভিযোগ, ক্ষতি ২ কোটি টাকা

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও তৈরি পণ...

‘পানি পানি’ বলে আর্তনাদ, ফ্ল্যাটে মিলল গৃহবধূর মরদেহ
২৪ আগস্ট ২০২৬

‘পানি পানি’ বলে আর্তনাদ, ফ্ল্যাটে মিলল গৃহবধূর মরদেহ

সুজাউদ্দৌলা সুজন: জামালপুর শহরের শেখের ভিটা এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জা...

মেহেরপুরে ভোক্তা অধিকার অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
২৪ আগস্ট ২০২৬

মেহেরপুরে ভোক্তা অধিকার অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

এস এ খান শিল্টু: মেহেরপুরে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে