গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মেনু

সাতক্ষীরায় জাল কোর্ট ফি চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:১০ পিএম, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ০২:৫৬ এএম ২০২৬
সাতক্ষীরায় জাল কোর্ট ফি চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার
ছবি

মো. সিরাজুল ইসলাম -ছবি আজকের প্রত্যাশা

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার জাল কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামি ও আদালতের অফিস সহায়ক মো. সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) রাতে সাতক্ষীরা জজ আদালত চত্বরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল কালীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দুই ক্রমিকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকার কোর্ট ফি জমা দেওয়া হয়। পরে ওই কোর্ট ফি জাল বলে সন্দেহ হলে আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগম জেলা ট্রেজারি অফিসে প্রতিবেদন চান।

ট্রেজারি অফিসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কোর্ট ফি তাদের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। এরপর ২০২১ সালের ১ জুলাই সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে আইনজীবী সহকারী কেরামত আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, জাল কোর্ট ফি স্ট্যাম্প বিক্রেতা রাজীবুল্লাহর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাজীবুল্লাহও গ্রেফতার হন এবং তিনি আদালতের পিয়ন সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে এসব কোর্ট ফি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফরিদ আহম্মদ ২০২৩ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিরাজুল ইসলাম, কেরামত আলী ও রাজীবুল্লাহকে আসামি করা হয়। তবে অভিযোগপত্রে সিরাজুলকে পলাতক দেখানো হয়।

পরবর্তীতে মামলার নথি দীর্ঘ সময় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৩০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনউদ্দিন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সিরাজুল ইসলাম। বর্তমানে অফিস সহায়ক হিসেবে তার মাসিক বেতন ১৯ হাজার ৩২০ টাকা। তবে এর মধ্যেই তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া মাছখোলায় জমি কেনা ও বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের তথ্যও সামনে এসেছে।

তার সম্পদের উৎস নিয়ে আদালতপাড়াসহ স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেছেন অনেকে।

এদিকে সিরাজুল ইসলামের গ্রেপ্তারের পর দুই কোটির বেশি টাকার জাল কোর্ট ফি কিনে বিপাকে পড়া শতাধিক আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে আদালতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সুন্দরবনে দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান
২২ মে ২০২৬

সুন্দরবনে দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান

সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যুকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানি...

খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি
২১ মে ২০২৬

খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি

খুলনা নগরের লবণচরা থানার পুটিমারী বাজার এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ঢুকে যুবদলের এক নেতাকে গুলি...

খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ
২১ মে ২০২৬

খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঝিনাইদহে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। এতে খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে...

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ
২১ মে ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের জন্য কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে হ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই