সাতক্ষীরায় কোটি টাকার জাল কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামি ও আদালতের অফিস সহায়ক মো. সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) রাতে সাতক্ষীরা জজ আদালত চত্বরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল কালীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দুই ক্রমিকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকার কোর্ট ফি জমা দেওয়া হয়। পরে ওই কোর্ট ফি জাল বলে সন্দেহ হলে আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগম জেলা ট্রেজারি অফিসে প্রতিবেদন চান।
ট্রেজারি অফিসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কোর্ট ফি তাদের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। এরপর ২০২১ সালের ১ জুলাই সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে আইনজীবী সহকারী কেরামত আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, জাল কোর্ট ফি স্ট্যাম্প বিক্রেতা রাজীবুল্লাহর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাজীবুল্লাহও গ্রেফতার হন এবং তিনি আদালতের পিয়ন সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে এসব কোর্ট ফি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফরিদ আহম্মদ ২০২৩ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিরাজুল ইসলাম, কেরামত আলী ও রাজীবুল্লাহকে আসামি করা হয়। তবে অভিযোগপত্রে সিরাজুলকে পলাতক দেখানো হয়।
পরবর্তীতে মামলার নথি দীর্ঘ সময় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে গত ৩০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনউদ্দিন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সিরাজুল ইসলাম। বর্তমানে অফিস সহায়ক হিসেবে তার মাসিক বেতন ১৯ হাজার ৩২০ টাকা। তবে এর মধ্যেই তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া মাছখোলায় জমি কেনা ও বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের তথ্যও সামনে এসেছে।
তার সম্পদের উৎস নিয়ে আদালতপাড়াসহ স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেছেন অনেকে।
এদিকে সিরাজুল ইসলামের গ্রেপ্তারের পর দুই কোটির বেশি টাকার জাল কোর্ট ফি কিনে বিপাকে পড়া শতাধিক আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে আদালতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬