চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা ও আবু জাফর সড়ক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের দোকানের কর্মচারী মনির নামে এক ব্যক্তি সাড়ে তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটিকে পরে একটি ভবনের সিঁড়িঘরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টার পরও রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাকে নিয়ে যেতে পারেনি পুলিশ।
রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা পুলিশ সদস্য বহনকারী একটি বড় ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন অলিগলি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও। স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালান। এতে শাহ আমানত সেতু থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রাবার বুলেটে আহত হন দুই সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের সরিয়ে আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে নির্যাতিত শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি শিশুটির চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬