সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যুকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, অন্যথায় আরো কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের দিকনির্দেশনায় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি অভিযান চলমান রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ওয়াকিটকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জিম্মি অবস্থায় থাকা ২০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযানের চাপে অনেক দস্যু আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে ২০২৬ রাতে মোংলা থানাধীন নন্দবালা খাল এলাকায় সুন্দরবনের ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড আরো জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দস্যু এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোস্ট গার্ডের চলমান অভিযানে দস্যু চক্রের একটি অংশ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে তা অভিযানকে ব্যাহত করতে পারবে না।
সংস্থাটি সুন্দরবনের সব সক্রিয় দস্যুকে দস্যুবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
সানা/আপ্র/২২/৫/২০২৬