সাজ্জাদ হোসেন, আশুলিয়া (সাভার) প্রতিনিধি: আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর বাগ গ্রামে বায়নাকৃত জমি বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নাজিম মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় একই এলাকার হযরত খানের স্ত্রী ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত এ বিরোধে সরকারি ভূমি আইনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক আগে নাজিম মোল্লা কাদের দেওয়ান জলিলের কাছ থেকে একটি জমি বায়না (অগ্রিম চুক্তির মাধ্যমে ক্রয়) করেন। সে সময় ভুলবশত ওই জমিতে বসবাস শুরু করে হযরত খানের পরিবার। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানে ঘর নির্মাণের ক্ষতিপূরণ বাবদ হযরত খানকে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন নাজিম মোল্লা এবং তাকে নিজ জমিতে চলে যেতে বলা হয়।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হযরত খান লিখিতভাবে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং পরে বিদেশে চলে যান। কিন্তু পরবর্তীতে নাজিম মোল্লা বায়নাকৃত ওই জমি অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে গেলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হযরত খান বিদেশে থাকায় তার স্ত্রী ইয়াসমিন বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। জমিতে দেয়াল নির্মাণ করতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। কখনও জরুরি সেবায় ফোন করে পুলিশ ডাকা, আবার কখনও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে তাকে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন নাজিম মোল্লা।
নাজিম মোল্লা আরও বলেন, হযরত খানের ছেলে আলামিন পুলিশের চাকরিতে থাকার সুবাদে তারা স্থানীয় গ্রাম্য সালিশ মানছেন না। বরং আদালতে বসতভিটা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হযরত খান তিন লাখ টাকা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। তারা ভুল করে আমার বায়নাকৃত জমিতে ঘর করেছিলেন, যার ক্ষতিপূরণ আমি দিয়েছি। বর্তমানে তারা যে জমি কিনেছেন সেখানে বাড়ি করে বসবাস করছেন। অথচ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”
নাজিম মোল্লা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন জমির কাগজপত্র যাচাই করে সুষ্ঠু সমাধান দেন। “কাগজপত্রে যদি জমি আমার হয়, তাহলে আমাকে দেওয়া হোক। আর যদি তাদের হয়, তাহলে তাদের দেওয়া হোক”—বলেন তিনি।
এ বিষয়ে হযরত খানের স্ত্রী ইয়াসমিন বলেন, “আমি এখনো জমি বুঝে পাইনি। আমি যে বাড়িতে থাকি সেটাও আমার না। আগে যে জমিতে ছিলাম সেটাও আমাদের না। আদালতই ঠিক করে দেবে কোনটা আমাদের। বর্তমানে আমরা যে জমিতে বাড়ি করেছি সেখানে থাকছি। আগের জমিতে আমরা বাড়ি করে বসবাস করছিলাম, তখন আমাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই বছর আগে আমি আদালতে মামলা করেছি। আমিও বিচার চাই—কাগজ যার, জমি তার।”
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সানা/আপ্র/১৪/৩/২০২৬