গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬

মেনু

২০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা কলাপাড়ায়

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৪:১০ এএম ২০২৬
২০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা কলাপাড়ায়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

উপকূলীয় কৃষিপ্রধান জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তরমুজ চাষে রেকর্ড আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৬৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এতে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরাসরি তরমুজ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে ভালো ফলন ধরেছে। তবে ফল বড় ও মিষ্টি করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত মিষ্টি পানি। আর সেখানেই দেখা দিয়েছে বড় সংকট। অনেক কৃষক দূরবর্তী স্থান থেকে মোটরের মাধ্যমে পানি এনে সেচ দিচ্ছেন, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পানির সংকটে দুশ্চিন্তা কৃষকদের তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এলাকায় স্পষ্ট। খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পানির স্বল্পতা ও লবণাক্ততার ঝুঁকি কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালগুলো সচল থাকলে আরো বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা।

লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষক মো. বেলাল জানান, গত ১০ বছর ধরে তরমুজ চাষ করছি। এ বছর তিন একর জমিতে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু প্রতিবছর বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে প্রতারণা ও মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণা পোহাতে হয়। কৃষিপণ্যের দামের লাগাম টানতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা পুরোপুরি আধুনিক কৃষক হতে পারিনি। তবে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে এসে খোঁজখবর রাখছেন এবং বিনামূল্যে সার ও বীজ দিচ্ছেন। এ সহযোগিতা আরো বাড়লে কৃষকরা পিছিয়ে থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। খাল পুনঃখনন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তরমুজসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরো জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে তরমুজ চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এতে কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসি/আপ্র/০১/০৩/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

তারাগঞ্জে মঞ্জুরুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তারাগঞ্জে মঞ্জুরুলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার

হত্যার ঘটনায় তদন্ত জোরদার

টঙ্গীতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, দ্রুত সমাধানের আল্টিমেটাম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টঙ্গীতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, দ্রুত সমাধানের আল্টিমেটাম

তিন মাসের বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই কারখানা বন্ধ

বটিয়াঘাটার ওয়াপদা সড়কে ইট সোলিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে নির্দেশ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বটিয়াঘাটার ওয়াপদা সড়কে ইট সোলিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে নির্দেশ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দুটি ইট সোলিং নির্মাণ কাজে চর...

খাল খননে দুর্নীতির দিন শেষ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খাল খননে দুর্নীতির দিন শেষ

মহম্মদপুরে নাগরিক সংবর্ধনায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর জিরো টলারেন্স ঘোষণা

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই