বাগেরহাটের দুই উপজেলা থেকে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার পাগলা দেয়াপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে সাবেক ইউপি সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিতলমারী উপজেলার চৌদ্দহাজারী গ্রাম থেকে গৃহবধূ রহিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃতরা হলেন ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য পাগলা দেয়াপাড়া গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে ৮০ বছর বয়সী শেখ মুজিবুর রহমান এবং চিতলমারী উপজেলার চৌদ্দহাজারী গ্রামের কাশেম তালুকদারের স্ত্রী রহিমা আক্তার।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, ঘরের বিছানা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। অন্যদিকে রহিমা আক্তারের মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রহিমার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না তাঁর স্বজনেরা। তাঁর ফুফাতো ভাই আলমগীর মুসাইদ বলেন, ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে কাশেমের সঙ্গে রহিমার বিয়ে হয়। তাঁর ভাষ্য, রহিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে তাঁর আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি; বরং তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, সংসারের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে রহিমার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরেই শাশুড়ি রহিমাকে হত্যা করেছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
তবে রহিমার শ্বশুর মিলন তালুকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার হঠাৎ রহিমার রক্তচাপ কমে যায় এবং মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। এ সময় তাঁর ছেলে পাশের বর্তি বাজার থেকে ওষুধ আনতে গেলে সেই সুযোগে রহিমা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, রহিমা প্রায়ই মাথার যন্ত্রণায় ছটফট করতেন এবং যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম বলেন, দুই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬