সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলারসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ জনকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী যাত্রী এবং ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায় মাছ ধরার ট্রলার এফভি ক্রিস্টাল-১। বোটে থাকা লোকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।
পরে নিয়মিত টহলে থাকা বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি উদ্ধার করে। এ সময় ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ঝুঁকিতে পড়া বোটটিতে পানি ঢুকে পড়ায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।
নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং ৬৫ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশকে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখে পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রে নেওয়া হচ্ছিল।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
আটক ও উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হচ্ছে। তবে তাঁরা তখনও থানায় এসে পৌঁছাননি।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানবপাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬