রাজধানীর কাফরুল এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে একজন আসামি প্রথমে জবানবন্দি দিতে রাজি হলেও পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার পৃথক মহানগর হাকিম আদালতে এসব জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জবানবন্দি না দেওয়া আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক রায়হান হোসাইন গ্রেফতার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তিনি জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পাশাপাশি আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
পরে মহানগর হাকিম জামসেদ আলমের আদালতে জিহাদ মোল্লা, মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে মাসুম বিল্লাহ, মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে নাহিদ হাসান এবং মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে আবির হাওলাদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জিয়ারুল মোল্লাকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য নেওয়া হলে তিনি পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মহানগর হাকিম দিদারুল আলম। তাদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
হত্যার পেছনে আধিপত্যের বিরোধ: এর আগে সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য শুটার ভাড়া করেছিলেন একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। তবে হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ।
ডিবি প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল এবং এর একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়। ভাড়াটে শুটারদের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচও বহন করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
গুলি চালানোর ঘটনায় ইউসুফ নিহত: মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু, ইউসুফসহ কয়েকজন কথা বলছিলেন।
এ সময় চঞ্চল মোল্যা ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি ইউসুফের বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ সময় হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মনির হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর পালানোর সময় মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে স্থানীয় লোকজন চঞ্চল মোল্যাকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে চঞ্চল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনের নাম জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরে জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুলসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ইউসুফ হত্যার ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলা করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় চঞ্চল মোল্যার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে এ হত্যা মামলায় একই ঘটনায় অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার চঞ্চল মোল্যার নাম এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সানা/আপ্র/২৮/৭/২০২৬