অমর একুশে বইমেলার শুক্রবার (১৩ মার্চ) ছিল পঞ্চম শিশুপ্রহর। সকাল থেকে মেলায় ভিড় করতে শুরু করেছে নানা বয়সী শিশু। কেউ এসেছে মা-বাবার হাত ধরে, কেউ দাদার সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের বড়দের সঙ্গে।
বেলা ১১টায় মেলার দ্বার খুলেছে, শিশুপ্রহর চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। শিশুদের জন্য সাজানো স্টলগুলোতে রঙিন প্রচ্ছদ, গল্প ও কল্পনার ভাণ্ডার শিশুদের কৌতূহলকে তীব্র করেছে। শিশুদের পছন্দের বইগুলোর মধ্যে রয়েছে রূপকথা, ছড়া, বিজ্ঞানভিত্তিক শিশুতোষ গল্প।
শিশুপ্রহরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পাপেট শো। ছোট ছোট রঙিন পুতুল-কখনো পাখি, কখনো বনজ প্রাণী-তাদের অভিনয় ও গল্প শিশুদের মধ্যে সততা, বন্ধুত্ব ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। শিশুদের মধ্যে হাসি আর চিৎকারে মঞ্চ পূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাপেট শোর চরিত্রগুলো ছিল ঐশ্বর্য, ঐতিহ্য ইতু, বাঘ মামা, মায়া হরিণ, কচ্ছপ, ছাগল, কাক ও খরগোশ। তিনটি গল্প ‘বনভ্রমণ’, ‘অপু দীপুর গল্প’ ও ‘বল্টু মামা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ’ শিশুদের সামনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
পাপেট থিয়েটারের পাশে বসানো দুটি বায়োস্কোপও শিশুদের আগ্রহ জাগিয়েছে। ছোট্ট জাহিয়া চৌধুরী রাহা বলেছে, বায়োস্কোপের ভিতরে গল্পের জগৎ দেখে তিনি বিস্ময়ে ভরে উঠেছেন।
শিশুদের সঙ্গে বাবা-মা, মেলার আনন্দে মুগ্ধ অভিভাবক: উত্তরা থেকে আসা ফারিহা কবির মেলায় এসেছে মা সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে। ফারিহা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। মেলায় এসে তার প্রিয় ছড়া ও গল্পের বই কেনা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থেকে আসা দুই বোন নিপা ও দিপা পাপেট শো দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে মেলার বই কিনেছে। অভিভাবকরা বলছেন, শিশুরা শৈশব থেকেই বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হলে কল্পনার জগৎ সমৃদ্ধ হয়।
প্রবন্ধ ও ধ্রুপদী বইয়ের বিক্রি শেষ দিকে বাড়ছে: অমর একুশে বইমেলায় ৫০০-এর বেশি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। গল্প, কবিতা, উপন্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রবন্ধের বইও মেলায় রয়েছে। মেলার শেষ দিকে ক্রেতারা তালিকা নিয়ে এসে বই কিনছেন।
টাঙ্গাইল থেকে আসা শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি তিনটি প্রবন্ধের বইসহ কিছু গল্প ও উপন্যাস কিনেছেন। প্রকাশনা সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, ধ্রুপদী লেখক যেমন হুমায়ূন আহমেদ ও হুমায়ূন আজাদের বই এখনও জনপ্রিয়।
নবসাহিত্য প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, ভাষাচিত্র, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সসহ বিভিন্ন প্রকাশনী প্রবন্ধ ও সমকালীন সাহিত্য, শিল্প, চলচ্চিত্র ও অর্থনীতি নিয়ে নতুন বই এনেছে।
নতুন বই ও সাংস্কৃতিক আয়োজন: গত বৃহস্পতিবার মেলায় নতুন ৮২টি বই জমা পড়েছে। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে ‘স্মরণ: মুস্তাফা জামান আব্বাসী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অগ্নিতা শিকদার, বাঁশরী, অচিন পাখি, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর পরিবেশন হয়।
শুক্রবার মেলা বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। শিশুপ্রহর সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষায়িত। শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।
ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতা: অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মেলায় লিফলেট বিতরণ করছে। দর্শনার্থীরা কিভাবে নিরাপদে থাকা যায় এবং জরুরি হটলাইন ১০২-এ যোগাযোগের উপায় শিখছে। এই কার্যক্রম মেলার শেষ দিন পর্যন্ত চলবে।
সানা/আপ্র/১৩/৩/২০২৬