গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

মেনু

টিভি সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনে নতুন শর্ত নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৫৩ এএম ২০২৬
টিভি সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনে নতুন শর্ত নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
ছবি

ছবি সংগৃহীত

টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম জারি করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো টিভি চ্যানেলে কর্মরত বা চাকরি ছাড়ার পর অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র (এনওসি) বাধ্যতামূলক।

অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনাপত্তিপত্র ছাড়া অন্য চ্যানেলে যোগদানকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সংগঠনটি তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করে বলেন, চাকরি পরিবর্তনে এমন বিধিনিষেধ শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি টেলিভিশন সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলে বলেন, অনেক চ্যানেলে স্বল্প বেতনে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেন, একজন কর্মীর চাকরি পরিবর্তন করা তার আইনি অধিকার। পূর্বের প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি শ্রম আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী চাকরি ছাড়তে পারেন এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে কোনো ছাড়পত্রের প্রয়োজন নেই। বরখাস্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও এমন শর্ত প্রযোজ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এই নির্দেশনাকে ‘অপেশাদার’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা শ্রম অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, প্রচলিত নিয়মে চাকরি ছাড়ার আগে নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান নেই। তিনি এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে রাজনীতি ডট কমের সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।

সব মিলিয়ে অ্যাটকোর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে টেলিভিশন সাংবাদিকতা অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে।
সানা/আপ্র/১৮/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংকট, ভোগান্তি চরমে
০৮ আগস্ট ২০২৬

সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংকট, ভোগান্তি চরমে

রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি অ...

টেকসই গণমাধ্যমে সরকার, মালিক ও সাংবাদিকের সমন্বয়ের আহ্বান
০৮ আগস্ট ২০২৬

টেকসই গণমাধ্যমে সরকার, মালিক ও সাংবাদিকের সমন্বয়ের আহ্বান

একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার য...

শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৭ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার বক্তব্য গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে...

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
০৭ আগস্ট ২০২৬

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত, জানালেন জয়সওয়াল

বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ ও গঠিত সরকারের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে না নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আবারো সেটিই বলছি। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।” প্রিয় পাঠক. আপনি কি মনে করেন ভারত সঠিক বলেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 6 ঘন্টা আগে