ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর ‘পাকিস্তান ভূগোলে থাকবে নাকি ইতিহাস হয়ে যাবে’— এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের উগ্র ও যুদ্ধংদেহী বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রোববার (১৭ মে) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান একটি সার্বভৌম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশটিকে লক্ষ্য করে যেকোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী শনিবার নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বিশ্বের মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে— সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।
ওই সভায় তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গত বছরের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে। জবাবে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
এর পরদিনই আইএসপিআর বিবৃতিতে ভারতের বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’, ‘উগ্র-জাতীয়তাবাদী’ ও ‘সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে উল্লেখ করে। পাকিস্তানের দাবি, এ ধরনের মনোভাবই দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়াকে যুদ্ধ ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একটি সার্বভৌম পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি কাণ্ডজ্ঞানহীনতা ও বিপজ্জনক যুদ্ধোন্মাদনার শামিল। এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাবও হবে ‘সমমানের ও ব্যাপক’ এবং এর ধ্বংসযজ্ঞ একতরফা হবে না।
পাকিস্তান আরো অভিযোগ করেছে, ভারত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, আন্তঃসীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং বৈশ্বিক অপপ্রচারে জড়িত রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৮/৫/২০২৬