সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে।
আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (১৭ মে) বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার ভেতরে একটি ড্রোন আঘাত হানলে জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি এবং তেজস্ক্রিয়ার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করলেও তৃতীয় একটি ড্রোন বারাকাহ কেন্দ্রের কাছে একটি জেনারেটরে আঘাত হানে। ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ দিয়ে প্রবেশ করেছে বলে জানানো হলেও হামলার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
আরব উপদ্বীপের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বারাকাহর কার্যক্রম হামলার পরও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তারা বলেছে, “সব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।”
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, হামলার কারণে একটি চুল্লিকে সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন কোনও সামরিক কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। আমিরাতও প্রকাশ্যে কোনও দেশকে দায়ী করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর থেকে আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান এর আগে আমিরাতের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অভিযোগ তোলে।
সৌদি আরব সীমান্তসংলগ্ন বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবুধাবি থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এবং দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।
সানা/আপ্র/১৮/৫/২০২৬