যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারেন—এমন আশঙ্কার মধ্যেই বিশ্ববাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ড্রোন হামলা ও সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলবাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১ ডলার বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরুতে দাম ১১২ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমে এই অবস্থানে স্থির হয়।
একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি আগের তুলনায় ২ দশমিক ৩৩ ডলার বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। একপর্যায়ে দাম ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে ওঠে, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা বন্ধে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনাও উত্তেজনা নিরসনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস তদন্ত করা হচ্ছে। দেশটি এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার অধিকার থাকার কথাও জানিয়েছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক বন্দনা হরি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরো গভীর হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক মাস মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের সময় শেষ হওয়ায় ভারতসহ কয়েকটি দেশ সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল আমদানির সুযোগ হারিয়েছে। এরও প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
অন্যদিকে ইরাকের আকাশসীমা থেকে আসা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি আরব। দেশটি সতর্ক করে জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
এসি/আপ্র/১৮/০৫/২০২৬