অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা এবং ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। সিআইডির দাবি, চক্রটি গত ছয় মাস ধরে অনলাইন জুয়ার সাইট চালিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করত, যার বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।
রোববার (১৭ মে) ঢাকার মালীবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বিকাশ, রকেট, নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে লেনদেন করতেন। পরে সেই অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। তিনি বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার নিয়মিত নজরদারির সময় চক্রটির কার্যক্রম শনাক্ত করে পল্টন থানায় মামলা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো চারজনকে আটক করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, অভিযানের সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন বলে দাবি সংস্থাটির।
অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তে তদন্ত চলছে।
তবে এই চক্রের সঙ্গে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে তালিকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৭৯টি মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৫/২০২৬