গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

মেনু

সব পরাজয় হার নয়-কেপ ভার্দে সেটাই শিখিয়ে গেল

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ২১:২৬ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৪ এএম ২০২৬
সব পরাজয় হার নয়-কেপ ভার্দে সেটাই শিখিয়ে গেল
ছবি

গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ভোজিনহো যেন দুই হাত নয়, পুরো একটি জাতির স্বপ্ন নিয়ে বল ঠেকাচ্ছিলেন -ছবি রয়টার্স

ফুটবল বড় অদ্ভুত এক শিল্প। এখানে সব সময় ট্রফি জেতা দলই সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনও কখনও ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় লিখে যায় সেই দল, যারা শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে পিছিয়ে থাকে-তবুও মাথা নত করে না। আজ সেই গল্পের নাম-কেপ ভার্দে।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়িয়েছিল সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট এক দ্বীপদেশ। পৃথিবীর মানচিত্রে যার অস্তিত্ব খুঁজে পেতেও অনেকের সময় লাগে। অথচ সেই ছোট্ট দেশটিই আজ নব্বই মিনিট নয়, একশ বিশ মিনিট ধরে ফুটবলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করলো। 

মাঠে নামার আগে হয়তো কেউ তাদের জয়ের প্রার্থনা করেনি। কেউ ভাবেনি, তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে লড়বে। কিন্তু কিছু মানুষ জেতার জন্য মাঠে নামে, আর কিছু মানুষ নামে নিজের সাহসের পরিচয় দেওয়ার জন্য। কেপ ভার্দে দ্বিতীয় দলের গল্প লিখেছে।


মেসি গোল করলেন। স্টেডিয়াম গর্জে উঠলো। মনে হলো, সবকিছু হয়তো অনুমিত পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ কি কখনও একবার আছড়ে পড়ে থেমে যায়? কেপ ভার্দেও থামেনি। তারা ফিরে এসেছে।
একবার...তারপর আবারো।


প্রতিটি সমতাসূচক গোল যেন শুধু জালে বল পাঠায়নি, ভেঙে দিয়েছে অহংকারের দেয়াল। মনে করিয়ে দিয়েছে-জার্সির তারকা নয়, বুকের সাহসই শেষ পর্যন্ত একজন ফুটবলারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ভোজিনহো যেন দুই হাত নয়, পুরো একটি জাতির স্বপ্ন নিয়ে বল ঠেকাচ্ছিলেন। প্রতিটি সেভ ছিল একটি কবিতা। প্রতিটি ডাইভ ছিল একটি ঘোষণা-”এখনো আমরা বেঁচে আছি।”


রক্ষণভাগের প্রতিটি ট্যাকল ছিল নিজের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। মাঝমাঠের প্রতিটি দৌড় ছিল অসম্ভবকে বিশ্বাস করার গল্প। আর প্রতিটি পাল্টা আক্রমণ ছিল আকাশের দিকে ছুড়ে দেওয়া এক নীরব প্রশ্ন-
‘ছোট বলে কি স্বপ্নও ছোট হবে?’


অবশেষে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা জয়ের গোল খুঁজে পেল। অভিজ্ঞতা কখনও কখনও রূপকথার চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শেষ বাঁশি বাজলো। আর্জেন্টিনা জিতলো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এদিন হারার পরও কেপ ভার্দের চোখে পরাজয়ের ছায়া ছিল না। ছিল অপূর্ণতার কষ্ট, কিন্তু আত্মসম্মান হারানোর বেদনা ছিল না। কারণ তারা জানতো, পৃথিবীর অন্যতম সেরা দলের সামনে তারা মাথা নত করেনি।


রাতে যখন স্কোরবোর্ড নিভে যাবে, আলো নিভে যাবে, পরিসংখ্যানের পাতায় শুধু একটি ফলাফল লেখা থাকবে-আর্জেন্টিনা ৩, কেপ ভার্দে ২। কিন্তু যারা এই ম্যাচ দেখেছে, তাদের হৃদয়ে অন্য একটি ফল চিরদিন বেঁচে থাকবে।


একটি ছোট্ট দেশের বিশাল সাহস... একদল অচেনা ফুটবলারের অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস... আর সেই চিরন্তন সত্য-ফুটবলে সব বিজয় ট্রফিতে মাপা যায় না। কিছু বিজয় মানুষের হৃদয়ে লেখা থাকে। আজ কেপ ভার্দে কাপ জেতেনি। তারা জিতে নিয়েছে মানুষের শ্রদ্ধা। আর পৃথিবীর সব শ্রদ্ধাই কোনো না কোনো দিন ইতিহাস হয়ে যায়। 
সানা/আপ্র/৪/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড
০৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড

এই গোল কেউই করতে চায় না। কারণ, তা নিজ দলের বিপক্ষেই যায়। তবু বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা এবার এম...

কেপ ভার্দের লড়াইয়ে ক্লান্ত আর্জেন্টিনা, বললেন স্কালোনি
০৪ জুলাই ২০২৬

কেপ ভার্দের লড়াইয়ে ক্লান্ত আর্জেন্টিনা, বললেন স্কালোনি

নকআউট পর্বে চমক জাগানো কেপ ভার্দ নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য উজাড় করে খেলেছে বলে মনে করেন আর্জেন্টিনা...

গোলকিপার ভোজিনহার ফলোয়ার ৫০ হাজার থেকে এক লাফে ২ কোটি
০৪ জুলাই ২০২৬

গোলকিপার ভোজিনহার ফলোয়ার ৫০ হাজার থেকে এক লাফে ২ কোটি

কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা বিশ্বকাপের মাঠে যেমন নজর কাড়ছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও সামাজিক যোগা...

ট্রফিহীন লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন ভোজিনহা
০৪ জুলাই ২০২৬

ট্রফিহীন লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন ভোজিনহা

কিছু ফুটবলার ট্রফি জিতে কিংবদন্তি হন, আবার কেউ ট্রফি ছাড়াই হয়ে ওঠেন ইতিহাস। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই