নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সোনাকান্দা ত্রিবেনীপুল এলাকায় বংশপরম্পরায় ঢোল, তবলা-বায়া, খোল, নালসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে আসছেন কয়েকটি পরিবার। দেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ এই ক্ষুদ্র শিল্পটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকায় বর্তমানে চারটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির দোকান রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ জন কারিগর কাজ করেন। এছাড়া অনেকেই নিজ বাড়িতেও এসব বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন। একসময় এই শিল্পে চাহিদা ও ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে।
কারিগররা জানান, তবলা, বায়া, খোল, নাল, পাখোয়াজ, ঢোল, ঢোলক, খঞ্জরি, ঘুমোটসহ অর্ধশতাধিক বাদ্যযন্ত্র এখানে তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে সরবরাহ করা হয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই শিল্পে ধস নেমেছে।
কারিগরদের অভিযোগ, বর্তমানে চামড়ার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিক্রি কমে যাওয়ায় তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে নতুন কারিগরও তৈরি হচ্ছে না।
১৯৯০ সাল থেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নির্মল মিউজিক সেন্টারের মালিক দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, এখন আর আগের মতো অবস্থা নেই। লাভ কম, খরচ বেশি। চাহিদাও নেই। কারিগর পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। তার ভাষায়, এই পেশা এখন বিলুপ্তির পথে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তির কারণে মানুষ এখন গিটারসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে বেশি আগ্রহী। অনেকে আবার রেকর্ডেড সাউন্ড ব্যবহার করায় লাইভ বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে।
তবলা তরঙ্গের মালিক অরবিন্দু দাস বলেন, কোনো লাভ নেই, কোনোমতে টিকে আছি। আমার পর ছেলে এই পেশায় আসবে না।
শ্রী লোকনাথ যন্ত্র সঙ্গীতের মালিক স্বপন কুমার দাস বলেন, তাদের পরিবার প্রজন্ম ধরে এই কাজ করলেও এখন আর সন্তানদের এই পেশায় আনতে চান না। তার মতে, এখন এই পেশায় সম্মান ও আয় দুই-ই কমে গেছে।
কারিগর প্রদীপ মনির দাস জানান, দীর্ঘদিন কাজ করেও এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় কম থাকায় সন্তানের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক কারিগর অজিত দাস। তিনি বলেন, মজুরি কমে যাওয়ায় এই পেশা ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস জানান, ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। আবেদন পেলে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্র: জাগো নিউজ
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৪/৭/২০২৬