কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা বিশ্বকাপের মাঠে যেমন নজর কাড়ছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়ে উঠেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যিনি ছিলেন তুলনামূলকভাবে অচেনা, তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবল তারকাদের একজন।
বিশ্বকাপ শুরুর সময় ভোজিনহা ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখে, অর্থাৎ ২ কোটির কাছাকাছি।
এই সংখ্যায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বিশ্বকাপজয়ী আটটি দেশের মধ্যে সাতটি জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীকেও। কেবল ব্রাজিল জাতীয় দলই তার চেয়ে বেশি অনুসারী ধরে রেখেছে।
স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের পর থেকেই ভোজিনহা জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে অসাধারণ সেভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে উন্মাদনা আরো বাড়ে।
বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করেন ভোজিনহা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই তিনি সবচেয়ে বেশি চাপ সামলান, যেখানে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।
এই পারফরম্যান্সের পর অনেক সমর্থক তাকে ‘জাতীয় নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত তার অনুসারী দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৪ লাখে, যা অনেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশের জাতীয় দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়েও বেশি।
মাঠের বাইরের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন জগতে প্রবেশ করেছেন ভোজিনহা। সম্প্রতি তিনি একটি ফুটবল ভিডিও গেমের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামের আশপাশে তার মুখাবয়বের মুখোশ বিক্রিও হয়, যা তার জনপ্রিয়তার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, তার পারিবারিক গল্পও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে তার মা আনা কান্দিদা এভোরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকতে পারেননি ভিসা জটিলতার কারণে। পরে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পান।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহা প্রতি বিভিন্ন ক্লাবের আগ্রহও বাড়ছে বলে জানা গেছে। ব্রাজিলের একটি ক্লাব তাকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যিনি ইনস্টাগ্রামে ছিলেন প্রায় ২৮ হাজার অনুসারীর একজন সাধারণ ফুটবলার, সেই ভোজিনহাই এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা জনপ্রিয় তারকাদের একজন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৭/২০২৬