বাগেরহাটে সৎ বোনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, জমি দখল ও নানাবিধ হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহাম্মদ আরাফাত সিকদার (এস. এম. আরাফাত রহমান)। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা গ্রামের মৃত সিকদার বাদশা মিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত সিকদার বলেন, তাঁর বাবা সিকদার বাদশা মিয়া মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাবার জীবদ্দশায় পরিবারের সব সম্পত্তি ভাইবোনদের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা হলেও তাঁর সৎ বোন ও মোল্লাহাট উপজেলা মহিলা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি উম্মে হামীমা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, উম্মে হামীমা বিগত সরকারের সময়ে প্রভাব খাটিয়ে পৈতৃক জমির ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় ২৪/০৩/২৬ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
আরাফাত সিকদার আরো দাবি করেন, ওমরাহ হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর মোল্লাহাট থানার তৎকালীন ওসির মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর আরেক ভাই এস. এম. বুরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, শহীদ হেমায়েত উদ্দিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে হামীমা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ছেলেকে অবৈধভাবে চাকরি দিয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষবিশিষ্ট ভবন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এ ছাড়া খুলনা, মোল্লাহাট ও ঢাকায় তাঁর নামে–বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে দাবি করে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
তিনি অভিযোগ করেন, পৈতৃক পুকুরপাড়ের সাধারণ রাস্তা আংশিক বন্ধ করে সেখানে ব্যক্তিগত উঠান ও ফুলের বাগান করা হয়েছে, যার ফলে পারিবারিক পরিবেশ ও সম্পত্তি নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে আরাফাত সিকদার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৫/৭/২০২৬