২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক কানাডার স্বপ্নের যাত্রা থামিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে আজেদিন উনাহির জোড়া গোল ও বদলি হিসেবে নামা সুফিয়ান রাহিমির যোগ করা সময়ের গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় উত্তর আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। স্কোরলাইন একপেশে হলেও ম্যাচের শুরুটা ছিল কানাডার দখলে। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল গুনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। পঞ্চম মিনিটে লুক ডি ফুজেরোলেসের হেড থেকে বল পেয়ে একাই গোলের দিকে এগিয়ে যান জনাথন ডেভিড। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে কাটিয়ে শট নিলেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন মরক্কোর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ১১ মিনিটে আবারও নিশ্চিত গোলের সুযোগ পায় কানাডা। আলি আহমেদের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেইয়ের জোরালো শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনু। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিল না মরক্কো। ২১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি। প্রথম ৪৫ মিনিটে মরক্কো কার্যকরভাবে আক্রমণ গড়তে পারেনি। তাদের একমাত্র লক্ষ্যে থাকা শটটিও সহজেই সামাল দেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে বক্সের বাইরে বল পান আজেদিন উনাহি। প্রথম স্পর্শেই নেওয়া তার নিখুঁত বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় কানাডার জালে। এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মরক্কো। যদিও সমতায় ফেরার লক্ষ্যে কানাডা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৫৯ মিনিটে টানা দুটি কর্নার পেলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ৭৯ মিনিটে তাজন বুকানানের দূরপাল্লার শটও দারুণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন বুনু।
কানাডা যখন সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া, তখন দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় মরক্কো। ৮২ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন তালবি। তার নিখুঁত পাস পেয়ে ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে ঢুকে বল বাড়িয়ে দেন উনাহির কাছে। নিয়ন্ত্রণে নিয়েই জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন এই মিডফিল্ডার। এরপর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের আরেকটি মাপা পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন সুফিয়ান রাহিমি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, স্কোরলাইন যতটা সহজ মনে হচ্ছে, মাঠের লড়াই ততটা একপেশে ছিল না। প্রথমার্ধে কানাডাই বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এবং অন্তত দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ গোলরক্ষকসুলভ নৈপুণ্য এবং দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা, সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিল। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পর এবারও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে শেষ আটে নাম লেখাল। অন্যদিকে পরাজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হলো কানাডার ইতিহাস গড়া বিশ্বকাপ অভিযান। এই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়, পয়েন্ট অর্জন এবং নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্ব গড়লেও শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতেই থেমে যেতে হলো অন্যতম স্বাগতিক দেশটিকে।
সানা/আপ্র/৫/৭/২০২৬