সেলিমুজ্জামান=================
কপোতাক্ষ, একদিন তুমি ছিলে নীল স্বপ্নের ধারা,
আকাশছোঁয়া রৌদ্র-ছায়ায় ভাসত জীবন সারা।
তীরে তীরে গুনগুনিয়ে গাইতে যৌবনের গান,
তোমার জলে জেগে উঠত সবুজ শস্যের প্রাণ।
আজ তোমার বুকে ফাটল- দীর্ঘশ্বাসে ভরা ক্ষত,
শ্বাস নিতে কষ্ট তোমার, স্তব্ধ ঢেউয়ের রথ।
নীরব আর্তনাদ ভেসে যায় কাদামাখা হাওয়ায়,
শোনে না কেউ-মানুষ আজ নিজস্ব ব্যস্ততায়।
কচুরিপানার ভারে নুয়ে পড়ে ক্লান্ত বুক,
স্বচ্ছ জলের বদলে জমে অভিমানের দুঃখ।
জল নয়, যেন জমাট কষ্ট, স্তরে স্তরে ক্ষয়,
ধূসর বুকে লুকিয়ে রাখো অবহেলার ভয়।
কোথায় হারালো নৌকার সুর, সেই ভাটিয়ালি গান?
মাঝির চোখে লবণজল, নিভে গেছে প্রাণ।
ঘাটে ঘাটে পড়ে আছে স্মৃতির ভাঙা পাল,
নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেছে নদীর চঞ্চল কাল।
শৈশবেরা দৌড়াতো তোমার বালুচরের পরে,
আজ সেখানে ধুলোর হাহাকার, শুকনো সময় ঝরে।
কপোতাক্ষ, বলো তুমি- ফিরবে কি সেই দিন?
আবার কি ঢেউ তুলবে প্রাণ, ভরাবে নীলচিন?
মানুষের লোভে ক্ষয়ে গেলে, হলো জীবন শূন্য,
তোমার বুকে লিখে গেলো স্বার্থের নির্মম বর্ণ।
তবু পাড়ে বসে লিখি আমি মৃত্যুভয়ের গান,
কারণ তোমার সাথে জড়িয়ে এই মাটিরই প্রাণ।
তবু আশা রাখি-একদিন জাগবে নব স্রোত,
কলকল ধ্বনি ভেঙে দেবে অবসাদের জোট।
আবার তোমার জলে ফুটবে আকাশভরা রঙ,
ফিরে আসবে মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালির ঢঙ।
কপোতাক্ষ, তুমি মরো না-
এই আমার মিনতি, প্রার্থনা।
তোমাকে বাঁচাতেই চাই-
এ আমার অঙ্গীকার ও চেতনা।
সানা/আপ্র/৭/৩/২০২৬