গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মজুরিভিত্তিক নারী শ্রমিকদের আয় কমে বাড়ছে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৩ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৭ এএম ২০২৬
মজুরিভিত্তিক নারী শ্রমিকদের আয় কমে বাড়ছে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঢাকার রাস্তায় সকাল থেকেই তাপের তীব্রতা বাড়তে থাকে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পিচঢালা রাস্তা যেন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই গরমে কেউ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে আশ্রয় নিতে পারেন, কেউ কাজের সময় কমিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু শহরের অনানুষ্ঠানিক খাতের অসংখ্য নারী শ্রমিকের কাছে ওই সুযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাদের কাজ করে যেতে হয়।

গৃহকর্মী, পথের হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক কিংবা বিভিন্ন দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত নারীরা তাপদাহের সরাসরি প্রভাব বহন করছেন। তাদের জন্য অতিরিক্ত গরম শুধু শারীরিক অস্বস্তি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাজের সক্ষমতা, আয়, পারিবারিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।

গরমে বাড়ছে শারীরিক চাপ: তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা, বমিভাব কিংবা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে থাকলে হিট স্ট্রেস ও হিট এক্সহশনের ঝুঁকিও বাড়ে। বাইরে কাজ করা নারীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। অনেক সময় কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, ছায়া কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে শরীর খারাপ লাগলেও কাজ থামানোর সুযোগ থাকে না; বিশেষ করে দৈনিক মজুরি বা কাজের পরিমাণ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাওয়া নারীদের জন্য একদিন কাজ না করা মানে একদিনের আয় হারানো। ফলে অসুস্থতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মধ্যেও তারা কাজে বের হতে বাধ্য হন।

কমে যায় কর্মক্ষমতা, কমতে পারে আয়: তাপমাত্রা যত বাড়ে, শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে তত বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় শারীরিক শ্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে কাজের গতি কমে যেতে পারে, প্রয়োজন হতে পারে অতিরিক্ত বিরতির। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারীদের ক্ষেত্রে এই বিরতিরও অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে। একজন গৃহকর্মী নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক বাসায় কাজ করেন। রাস্তায় পণ্য বিক্রি করা নারীকে দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হয়। নির্মাণশ্রমিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হয়। ফলে শরীর বিশ্রাম চাইলে একদিকে যেমন কাজের গতি কমে, অন্যদিকে আয় কমার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এভাবেই তাপদাহ ধীরে ধীরে তাদের জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে।

নারী হওয়ার কারণে বাড়তি চাপ: তবে নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু কর্মস্থলের গরমে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক নারী কর্মস্থল থেকে ফিরে আবার ঘরের কাজেও যুক্ত হন। রান্না, সন্তানদের দেখাশোনা, বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়া- এসব দায়িত্বের বড় অংশও তাদের কাঁধে থাকে। অর্থাৎ দিনের একটি অংশ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শ্রম দেওয়ার পরও তাদের বিশ্রামের সুযোগ সীমিত। ঘরেও যদি পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করে কিংবা বিদ্যুতের সংকট থাকে, তাহলে শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ আরও কমে যায়। এ কারণে তাপদাহকে শুধু ‘আবহাওয়াজনিত সমস্যা’ হিসেবে দেখলে নারী শ্রমিকদের বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। এটি একই সঙ্গে শ্রম, স্বাস্থ্য, আয় এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়।

নিরাপদ পানি ও টয়লেটের সংকট: বাইরে কাজ করা নারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন। পর্যাপ্ত পানি পান করলেও কোথায় টয়লেট ব্যবহার করবেন—এই চিন্তায় অনেক নারী প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করতে পারেন। দীর্ঘসময় এমন পরিস্থিতিতে থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কর্মস্থলে নারীবান্ধব বিশ্রামস্থান বা আলাদা নিরাপদ জায়গার অভাবও তাদের জন্য বড় বাধা। ফলে প্রচণ্ড গরমে পুরুষ শ্রমিক যেখানে রাস্তার পাশে বা কোনো দোকানে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিতে পারেন, অনেক নারী সেখানে একইভাবে স্বস্তি নাও পেতে পারেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও উষ্ণ-আর্দ্র দেশের শহরগুলোতে এর প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে। ঢাকার অনানুষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকরা এই পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। কারণ তাদের অনেকেরই কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই, আয় অনিয়মিত এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতাও সীমিত। তাই তাপদাহ মোকাবিলায় শুধু সতর্কতামূলক বার্তা দিলেই হবে না। কর্মস্থলে বিশুদ্ধ পানি, ছায়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, কাজের সময় পুনর্বিন্যাস এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তাপদাহে একজন নারী শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়াকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে শ্রম ও জনস্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা। কারণ ঢাকার অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে যেসব নারী প্রতিদিন নীরবে শ্রম দিচ্ছেন, তাদের ঘামেই শহরের একটি বড় অংশের দৈনন্দিন জীবন এগিয়ে চলে। কিন্তু তাপমাত্রার পারদ যখন ওপরে ওঠে, তখন তাদের শরীরের সঙ্গে সঙ্গে পুড়তে থাকে জীবিকার নিশ্চয়তাও।

কেএমএএ/আপ্র/০৯.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শিক্ষাজীবনের শুরুটা শিশুর স্বস্তিদায়ক করতে পরিবারের ভূমিকা
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষাজীবনের শুরুটা শিশুর স্বস্তিদায়ক করতে পরিবারের ভূমিকা

শিক্ষাজীবনের শুরু একটি শিশুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে কোনো নতুন জায়গার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিশুদ...

স্ক্রিনে আসক্ত শিশুরা হারাচ্ছে শৈশব ও শারীরিক বৃদ্ধি
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ক্রিনে আসক্ত শিশুরা হারাচ্ছে শৈশব ও শারীরিক বৃদ্ধি

বাংলাদেশে দুই দশক ধরে অলিম্পিয়াড আন্দোলন বেশ জনপ্রিয়। গণিত অলিম্পিয়াড থেকে শুরু করে দেশে এখন ২৪-২৫ ধ...

রামাবাইয়ের শাড়ি পরে খালি পায়ে ‘ম্যারাথন’ জয়
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রামাবাইয়ের শাড়ি পরে খালি পায়ে ‘ম্যারাথন’ জয়

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথনে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের বিড জ...

নারী অধিকার সনদ ‘সিডও’র অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী অধিকার সনদ ‘সিডও’র অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ

নারী অধিকারের অন্যতম মৌলিক সনদ বলা হয় সিইডিএডব্লিউ বা সিডওকে। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৯টি দেশ জাতিসংঘ ঘোষ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে