গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

স্কুলগেটে ময়লার ভাগাড়: হুমকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩২ এএম ২০২৬
স্কুলগেটে ময়লার ভাগাড়: হুমকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে হাজারো শিশু বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায় নতুন কিছু শেখার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়ের সামনে তাদের প্রথম অভ্যর্থনা ফুলের সুবাস দিয়ে নয়, বরং পচা আবর্জনার দুর্গন্ধ দিয়ে হয়। স্কুলগেটের সামনেই উপচেপড়া ডাস্টবিন বা ময়লার গাড়ি, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, মাছি-মশার উপদ্রব- এসব যেন আমাদের নগর ব্যবস্থাপনার নির্মম প্রতিচ্ছবি। একটি সভ্য সমাজে এর চেয়ে বড় বৈপরীত্য আর কী হতে পারে? যে জায়গাটি শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি হওয়ার কথা- ওই স্থানই যদি রোগ ও দূষণের উৎসে পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়; শিশুদের মৌলিক অধিকারেরও লঙ্ঘন।

বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অথচ বিদ্যালয়ের আশপাশে দীর্ঘসময় ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে নির্গত দুর্গন্ধ ও ক্ষতিকর গ্যাস শিশুদের ও তাদের সাথে আসা অভিভাবকদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে এসব বর্জ্য মশা, মাছি, ইঁদুর ও তেলাপোকার নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়, যা ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়াতে সহায়তা করে। শুধু স্বাস্থ্যগত ক্ষতিই নয়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ শিশুদের মনোযোগ, শেখার আগ্রহ এবং মানসিক স্বস্তিকেও ব্যাহত করে। একটি শিশুর শেখার পরিবেশ কখনোই দুর্গন্ধ ও আবর্জনার পাশে হতে পারে না।

ওই সংকটের জন্য শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী করলেই দায় শেষ হয় না। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ডাম্পিং ব্যবস্থার অভাব, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না করা এবং নাগরিকদের অসচেতন আচরণ- সব মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশে এখনো সব ধরনের বর্জ্য একই জায়গায় ফেলা হয়। অথচ প্রতিবেশী অনেক দেশেই কয়েক বছর ধরেই বর্জ্যরে ধরন অনুযায়ী আলাদা বিনে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা চালু আছে। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেমন আরও কার্যকর হয়, তেমনি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সহজে রিসাইকেল করা যায়। পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনও সম্ভব হয়। অর্থাৎ সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পরিচ্ছন্ন পরিবেশই নিশ্চিত করে না বরং অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।

বাস্তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপই হলো উৎসেই বর্জ্য পৃথকীকরণ। প্রতিটি স্কুল, বাসাবাড়ি, অফিস ও বাজারে অন্তত তিন ধরনের বিন থাকা উচিত- একটিতে জৈব বর্জ্য, একটিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য (যেমন- প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ ও ধাতু) এবং অন্যটিতে অবশিষ্ট বর্জ্য। এতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সহজেই পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে, জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করা যাবে এবং ল্যান্ডফিলে বর্জ্যরে চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিশ্বের অনেক শহর বহু আগেই এই পদ্ধতিকে বাধ্যতামূলক করেছে; আমাদেরও এখন আর দেরি করার সুযোগ নেই।

সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করার ফলে এখনো নগরের অনেক স্থানেই ময়লা ফেলা হয় খালে-বিলে এবং ড্রেনে। এর ফলে যে পরিবেশের কী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। একটি ছোট প্লাস্টিকের বোতামেও আমাদের অসচেতনতার পরিণতি কতা ভয়াবহ হতে পারে, তার একটা উদাহরণ দিই। শার্ট থেকে খুলে পড়া একটি বোতাম যদি ড্রেনে ফেলা হয়, তাহলে সেটি একসময় সেখান থেকে নদী হয়ে সাগরে পৌঁছে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভেঙে অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। সামুদ্রিক প্রাণীরা এগুলো খাদ্য ভেবে খেয়ে ফেলে, আর সেই প্রাণীই পরে আমাদের খাদ্যতালিকায় ফিরে আসে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় ইতোমধ্যে মানুষের রক্ত, ফুসফুস, লিভার, এমনকি মাতৃদুগ্ধেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আজ আমরা যে প্লাস্টিক অবহেলায় ফেলে দিচ্ছি, কাল সেটিই অন্য রূপে আমাদের শরীরে ফিরে আসছে। তাই একটি ছোট প্লাস্টিকের টুকরোও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে আসতে পারে। আর এজন্যই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এত বেশি জরুরি। বিদ্যালয়ের অন্তত ১০০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে উন্মুক্ত বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

প্রতিটি স্কুলের আশপাশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রতিদিন খুব ভোরে স্কুল ও নগরের কর্মব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় এলাকাকে ‘চাইল্ড-সেইফ এনভায়রনমেন্ট জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা যেতে পারে। স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি স্কুলের পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং অভ্যাস গড়ে উঠতে হবে।

কেএমএএ/আপ্র/১৯.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বেশি শিশু এখন নগর ও শহরে বাস করে। অনেকেই শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদ...

ইতিহাসে নেই মোগলদের প্রতিরোধ করা ভারতীয় মুসলিম নারীরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাসে নেই মোগলদের প্রতিরোধ করা ভারতীয় মুসলিম নারীরা

ভারতীয় উপমহাদেশে মধ্যযুগে এমন কয়েকজন মুসলিম নারী ছিলেন- যারা শুধু রাজনীতি বা প্রশাসনেই গুরুত্বপূর্ণ...

আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার কর্পসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার কর্পসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহরা

রাশিয়ার খান্তি-মানসিস্ক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল-ইউগ্রায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক আর্কটিক ভলান্টিয়ার কর্পস’-...

ঢাবির সান্ধ্য আইন নারী স্বাধীনতার অন্তরায় ও বৈষম্যমূলক
১৯ আগস্ট ২০২৬

ঢাবির সান্ধ্য আইন নারী স্বাধীনতার অন্তরায় ও বৈষম্যমূলক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীহলগুলোয় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকা সান্ধ্য আইনকে ন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে