গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ঢাবির সান্ধ্য আইন নারী স্বাধীনতার অন্তরায় ও বৈষম্যমূলক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৪ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:২০ এএম ২০২৬
ঢাবির সান্ধ্য আইন নারী স্বাধীনতার অন্তরায় ও বৈষম্যমূলক
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীহলগুলোয় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকা সান্ধ্য আইনকে নারী স্বাধীনতার অন্তরায় ও বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করে তা বাতিলের দাবি উঠেছে। ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’র পক্ষ থেকে এই ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের দাবি, ‘ছাত্রীহল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, নারী শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বৈধ আইডি কার্ড দেখিয়ে যে কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও রাতে অবস্থানের সুযোগ এবং নারী স্বজনদের (মা-বোন) হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।’ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নারীকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে পুরনো কৌশল হিসেবে তাকে ঘরের ভেতরে রাখা হয়ে আসছে।

আমাদের সংবিধানে ১৯(১) বলা হয়েছে, সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে সচেষ্ট হতে হবে। ১৯(৩)এ জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। ২৭ অনুচ্ছেদে সব নাগরিকের আইনের সামনে সমতা ও আইনের সমান আশ্রয় পাওয়ার কথা রয়েছে। ২৮(১) অনুচ্ছেদে শুধু লিঙ্গের কারণে নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরও সরাসরি ২৮(২) অনুচ্ছেদ বলছে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করবে। ২৮(৩) অনুচ্ছেদে লিঙ্গের কারণে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে নাগরিককে বিশেষ বাধা, দায়, বিধিনিষেধ কিংবা শর্তের মধ্যে রাখার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনি সুরক্ষা এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে ছাত্রীহলের সান্ধ্য আইন সমতা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সম্পর্কে সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ও ছাত্রীর জীবনের টাইমফ্রেম যেন আলাদা। একজন ছাত্র লাইব্রেরিতে থাকতে, টিএসসিতে আড্ডা দিতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং সংগঠনের সভা শেষ করে যে কোন সময় হলে ফিরতে পারেন। আর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে তখন সময় গুনতে হয়। কখন হলের দিকে রওনা দেবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, দেরি হলে কী জবাব দেবে; দরজা বন্ধ হয়ে গেলে কী করবে এসব ভাবনায় তাকে তটস্থ থাকতে হয়। একই ক্যাম্পাসে জেন্ডারভিত্তিক যেন দুরকম আইন। আর এখানেই ছাত্রীহলের সান্ধ্য বিধিনিষেধের মূল সমস্যা। একটি প্রতিষ্ঠান পুরুষ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ধরে নিচ্ছে, সর্বাবস্থায় তার নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা সক্ষম। আর নারী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ওই সিদ্ধান্তের একটি অংশ প্রতিষ্ঠান নিজের হাতে রেখে দিচ্ছে। ফলে রাত দশটা কেবল ঘড়ির সময় হয়ে থাকছে না, নারী ও পুরুষের স্বাধীনতার মাঝখানে টানা যেন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সীমারেখা। তারা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। তাদের দাবিগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে নারীর নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার।

ছাত্রজীবন শুধু ক্লাস আর হলে ফেরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সাংস্কৃতিক কাজ, বিতর্ক, চিত্রপ্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী- এসব শেষ হতেও দেরি হতে পারে। এ ছাড়া যে কোনো অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা, সাহিত্যচর্চা, বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা সবকিছুই তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অংশ। কারও আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা হসপিটালে ভর্তি হতে পারে। এ ছাড়া কোনো জরুরি ইস্যুও তৈরি হতে পারে বেশি রাত করে হলে ফেরার। এখানে ছাত্রছাত্রী উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক।

নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ যেন ঘরে-বাইরে সব সময়, সব জায়গায়। তবে এসব নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম নাম দেওয়া হয়। যেমন- নিরাপত্তা, সুরক্ষা, শালীনতা, পারিবারিক মর্যাদা কিংবা অভিভাবকত্ব। নারী কখন বাড়ি ফিরবে, কোথায় যাবে, কার সঙ্গে থাকবে, কত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকবে; এসব সিদ্ধান্ত যখন অন্যরা নিতে শুরু করে, তখন সুরক্ষা আর নিয়ন্ত্রণের সীমা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের বিভেদটা খুব স্পষ্ট। ছেলে সন্তানকে বলা হয়, সাবধানে ফিরো। মেয়েকে বলা হয়, সন্ধ্যার আগেই ফিরো। ছেলের নিরাপত্তার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়, মেয়ের নিরাপত্তার জন্য তার চলাচল সীমিত করে দেওয়া হয়। এই দুই ব্যবস্থার পার্থক্য গভীর। নারীর বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার পুরো দায় নারীর ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়েও যদি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে রাতে একজন নারী নিরাপদ নন ধরে নিয়ে যদি তাকেই হলে আটকে রাখা হয়, তাহলে অনিরাপদ পরিবেশ বদলানোর চাপ কমে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বুয়েট, ঢাকা মেডিক্যাল এসব কোথাও এমন আইন প্রচলিত নেই।

কেএমএএ/আপ্র/১৯.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

শোষণমূলক ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত লেখাপড়াবঞ্চিত শিশুরা

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বেশি শিশু এখন নগর ও শহরে বাস করে। অনেকেই শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদ...

ইতিহাসে নেই মোগলদের প্রতিরোধ করা ভারতীয় মুসলিম নারীরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাসে নেই মোগলদের প্রতিরোধ করা ভারতীয় মুসলিম নারীরা

ভারতীয় উপমহাদেশে মধ্যযুগে এমন কয়েকজন মুসলিম নারী ছিলেন- যারা শুধু রাজনীতি বা প্রশাসনেই গুরুত্বপূর্ণ...

স্কুলগেটে ময়লার ভাগাড়: হুমকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ
১৯ আগস্ট ২০২৬

স্কুলগেটে ময়লার ভাগাড়: হুমকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ

প্রতিদিন সকালে হাজারো শিশু বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায় নতুন কিছু শেখার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু অনে...

আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার কর্পসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহরা
১৯ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার কর্পসে বাংলাদেশের প্রতিনিধি জোহরা

রাশিয়ার খান্তি-মানসিস্ক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল-ইউগ্রায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক আর্কটিক ভলান্টিয়ার কর্পস’-...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে