রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (৫ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান এ তথ্য জানান।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। পরদিন ১ অক্টোবর তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
রিমান্ড শেষে সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে ঢাকার বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ধার্য তারিখ ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন।
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই প্রকল্পে থাকা কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের এক নম্বর ফটক দিয়ে ঢুকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পার হয়ে আরো কিছুটা সামনে এগোলেই প্রকল্পটির সীমানা শেষ। সেই সীমানা লাগোয়া ৩৫ কাঠা জমিতে একটি আবাসন প্রকল্প করার কথা রয়েছে, যদিও সেখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি।
নিউ গিনি প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য, ওই আবাসন প্রকল্পে যাতায়াতের পথ নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। পরে তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৫ কাঠা জমিতে মামলার চার নম্বর আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজন মিলে আবাসন প্রকল্প করতে চাইছেন। তবে ওই জমির চারপাশে যাতায়াতের মতো কোনো সড়ক নেই। নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের এক নম্বর ফটক দিয়ে যাওয়া সড়কটিই সেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ।
ঘটনার পরদিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা একটি বিতর্কিত জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য ছিল, ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতের আঁধারে এক পক্ষ দখল করতে গেলে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৫/১০/২০২৬